মশা দিয়েই মশাদের সায়েস্তা, রোগ ছড়ানো মশা রুখতে এবার ৬ কোটি মশা ছাড়ার পরিকল্পনা
একেই বোধহয় বলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু রোগবাহী মশাদের জব্দ করতে এবার ৬ কোটি মশা ছাড়ার পরিকল্পনা।
মশা দিয়েই মশাদের জব্দ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায়। মশা কেবল একটি পতঙ্গ নয়, একটি সাক্ষাৎ আতঙ্কের নাম। মশা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মত ভয়ংকর সব রোগের জীবাণু বহন করে বেড়ায়।
তারপর সেই মশা মানুষকে কামড়ালে সেই রোগের জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করে। এসব রোগ ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। যা অনেকসময় জীবন পর্যন্ত কেড়ে নেয়।
বিশ্ব জুড়েই মশা এভাবে একাধিক রোগ ছড়িয়ে চলেছে। সুস্থ মানুষকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মশাদের তাই ঠেকানো জরুরি। কিন্তু কীভাবে? এবার মশাদের জব্দ করতে মশাকেই অস্ত্র করল প্রথমসারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা গুগল।
পুরুষ মশারা মানব রক্ত পান করেনা। তারা গাছের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। এটাই কাজে লাগিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারে প্রচুর পুরুষ মশা তৈরি করেছেন তাঁরা। যাদের দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া। নাম ওলবাচিয়া পিপিয়েন্তিস।
এই ব্যাকটেরিয়া বাহক পুরুষ মশারা যখন প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ানো স্ত্রী মশাদের সঙ্গে মিলিত হবে, তখন স্ত্রী মশাদের দেহে ওই ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ ঘটবে।
এমনটা হলে তারা আর ডিম দেওয়ার মত অবস্থায় থাকবেনা। সে ক্ষমতা হারাবে। যার ফলে আগামী দিনে মশার সংখ্যা কমবে। আর মশার সংখ্যা যত কমবে ততই মশা বাহিত রোগের প্রকোপও কমতে থাকবে।
এই যুক্তিকে সামনে রেখে গবেষণাগারে তৈরি ৬ কোটি ৪০ লক্ষ এমন পুরুষ মশা তৈরি করেছে গুগল। গুগলের ডিবাগ উদ্যোগের অংশ এই মশা কমানোর চেষ্টা।
তবে তৈরি করলেও তা প্রকৃতির মাঝে ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সবুজ সংকেত পায়নি সংস্থা। সেই অনুমতি চেয়ে আবেদন করে রেখেছে গুগল।
ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই গবেষণাগারে তৈরি পুরুষ মশাদের ছাড়তে চেয়েছে সংস্থা। তাও একসঙ্গে নয়। ধাপে ধাপে ২ বছর ধরে এই ৬ কোটির ওপর মশা বাতাসে ছাড়তে চায় গুগল।











