বাবার আঁকা নকশার রহস্যভেদ করে গুপ্তধনের সন্ধান পেলেন এক ব্যক্তি
তাঁর বাবা একটি নকশা তৈরি করেছিলেন। যেখানে ছিল গুপ্তধনের সন্ধান। সেই নকশার রহস্যভেদ করে এক ব্যক্তি পৌঁছে গেলেন গুপ্তধনের কাছে।
গুপ্তধন কোথায় লুকোনো তা রয়েছে একটি নকশায়। কিন্তু সে নকশা বুঝতে পারা শক্ত। অবশেষে সেই নকশার রহস্যভেদ হয়। পাওয়া যায় গুপ্তধন। এমন কাহিনি সিনেমার পর্দায় বা বইয়ের পাতায় অনেকেই পেয়েছেন।
এবার সেই ঘটনা ঘটল বাস্তবে। তাঁর বাবার তৈরি একটি নকশার অর্থ ভেদ করে এক ব্যক্তি পৌঁছে গেলেন গুপ্তধনের কাছে। নাগালে পেলেন ৮০ বছর আগে লুকিয়ে রাখা পারিবারিক সম্পদ।
১৯৩৯ সালে তখন পোল্যান্ডের দিকে এগিয়ে আসছে রাশিয়ার সেনা। সে সময় বিপদ বুঝে গ্লাজেস্কি পরিবার তাদের যাবতীয় গয়নাগাটি থেকে কিছু পারিবারিক জিনিস একসঙ্গে করে তাদেরই বাড়ি সংলগ্ন জমিতে গর্ত করে পুঁতে দেয়।
তারপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর পরিবারের সবাই এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়েন। তাঁদের আর পুরনো বাড়িতে ফেরা হয়নি। এদিকে জায়গাটাও সময়ের সঙ্গে অনেক বদলে যায়। ওই বাড়িটাও আর থাকেনা।
এই পরিবার যখন পালায় তখন তাদের মধ্যে থাকা অ্যাডাম গ্লাজেস্কি বৃদ্ধাবস্থায় ১৯৮৯ সালে তাঁর ছেলে জ্যান গ্লাজেস্কি-র হাতে একটি নকশা তুলে দেন। যা তাঁর হাতে আঁকা নকশা ছিল। সেটা দিয়ে তিনি ছেলেকে জানান তাঁদের পারিবারিক কিছু গয়না ও জিনিস মাটিতে পোঁতা আছে। ওই নকশা ধরে গেলে জ্যান তা পেতেও পারেন।
২০১৯ সালে জ্যান সেই পুরনো স্থানে ফিরে আসেন। খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু সমস্যা হয় ভোল বদলে ফেলা ওই জায়গা। যেখানে না তাঁদের সেই বাড়ি ছিল, নাই নকশা অনুযায়ী অন্যকিছু।
তবে নকশা দেখে স্থানটা মোটামুটি পরিস্কার হয় জ্যানের কাছে। এরপর তিনি স্থানীয় মানুষজন এবং মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্য নিয়ে খোঁজ শুরু করেন। কয়েকদিনের চেষ্টায় মাটির একটা অংশ খুঁড়ে সেখান থেকে তাঁদের পারিবারিক সেই সম্পদ খুঁজেও পান।
যার মধ্যে ছিল রূপোর গয়না থেকে জিনিসপত্র, একাধিক বন্দুক, কিছু অন্যান্য জিনিসপত্র। ৮০ বছর আগে মাটিতে পুঁতে দিয়ে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া একটি পরিবারের সেই রক্ষিত ধন ৮০ বছর পর উদ্ধার করলেন তাদেরই বংশধর।











