৫ হাজার বছর আগে এ দ্বীপে ঘোরা নেকড়েরা এল কোথা থেকে, বিজ্ঞানীরা করলেন রহস্যভেদ
একটি দ্বীপ। খুব একটা বড় নয়। সেখানে নেকড়ে এল কোথা থেকে। তাও আবার ৫ হাজার বছর আগে। কীভাবে এল সে রহস্য ভেদ করলেন বিজ্ঞানীরা।
৫ হাজার বছর আগের কথা। সে সময় সমুদ্রের মাঝে একটি আড়াই কিলোমিটারের ছোট দ্বীপে ঘুরে বেড়াত অনেক নেকড়ে। কিন্তু সে দ্বীপে আর কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণির অস্তিত্বের কথা জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তাহলে অকূল সমুদ্রের মাঝে জেগে থাকা সেই দ্বীপে নেকড়ে এল কোথা থেকে?
ওই দ্বীপের একটি গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া নিদর্শন এটা তো নিশ্চিত করেছে যে সেখানে ৫ হাজার বছর আগে নেকড়ে ছিল। কিন্তু নেকড়ে তো সাঁতার জানেনা যে সমুদ্রে সাঁতার কেটে পৌঁছে যাবে!
বাল্টিক সাগরের মাঝে সুইডেনের একটি দ্বীপ স্টোরা কার্লসো। সেখানেই বিজ্ঞানীরা একটি গুহায় গবেষণা চালানোর সময় এই নেকড়ের কিছু চিহ্ন খুঁজে পান। বিজ্ঞানীরা নানা দিক দিয়ে পর্যালোচনা করার পর জানিয়েছেন নেকড়ে এ দ্বীপে ছিলও না, সাঁতার কেটে হাজিরও হয়নি।
তাদের এ দ্বীপে নিয়ে এসেছিল মানুষ। মানুষ যে সে সময় নেকড়ে পুষত তাও এর থেকে পরিস্কার। বিজ্ঞানীরা আরও একটি চিত্তাকর্ষক বিষয় সামনে এনেছেন।
আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ওই নেকড়েদের খাবার ছিল প্রধানত সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণি সিল।

ওই দ্বীপে যেসব মানুষ ৫ হাজার বছর আগে থাকতেন তাঁদেরও খাদ্যাভ্যাসে এই ২ পদ ছিল প্রধান। এ থেকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে এই দ্বীপে সে সময় যে নেকড়েদের তাঁরা নিয়ে এসেছিলেন, তাদের খাবারের যোগানও ওই দ্বীপবাসীই দিতেন। তাঁরা যা খেতেন সেটাই নেকড়েদেরও খাওয়াতেন।
৫ হাজার বছর আগেও যে গৃহপালিত পশুর ভাবনা মানুষের মধ্যে ছিল তা এই আবিষ্কার থেকেও পরিস্কার বিজ্ঞানীদের কাছে। খবরটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রীতিমত বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।











