টিবি আক্রান্ত কিনা জেনে দ্রুত চিকিৎসা শুরুতে এখন বড় ভরসা ড্রোন
কেউ কি টিবি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তা জেনে নিয়ে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা দ্রুত শুরু করে দিতে এখন বড় ভরসা হয়ে উঠতে চলেছে ড্রোন।
মানুষ থাকেনা। কেবল কয়েকটি প্রপেলারে ভরসা করে উড়ে যাওয়া ছোট একটা যন্ত্র যে কত বড় সুবিধা হয়ে উঠছে তা একের পর এক উদাহরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে। মানবসেবায় এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে।
প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও চিকিৎসা পরিষেবার অপ্রতুলতা এক বড় সমস্যা। প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেখানে অত্যন্ত মামুলি কিছু রোগেরই চিকিৎসা হয়। একটু ভারী রোগের প্রতিকার করতে শহর, নগর, মফস্বলে হাজির হতে হয় গ্রামের মানুষকে।
টিবি বা টিউবারকুলোসিস রোগের চিহ্নিতকরণ করতেও দীর্ঘ সময় কেটে যায়। কারণ কারও টিবি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে তিনি প্রথমে গ্রাম থেকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে শহরে হাজির হচ্ছেন। তারপর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর থুতু পরীক্ষা হচ্ছে।
যদি রিপোর্টে টিবি পাওয়া যায় তখন তাঁর চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। একটা বড় সময় এর মাঝে কেটে যাচ্ছে। যা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ দিনের মত। সেখানে ড্রোন তাঁর চিকিৎসা ৫ দিনে শুরু করে দিচ্ছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ আই ড্রোন উদ্যোগ শুরু করেছে তেলেঙ্গানায়। তেলেঙ্গানার যদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রথমে সন্দেহ হওয়া রোগীর থুতু সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারপর তা শহরে পাঠানো হচ্ছে ড্রোনের সাহায্যে।
ড্রোন নমুনা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ায় তখনই তার পরীক্ষা হচ্ছে। টিবি পাওয়া গেলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া হচ্ছে রোগীর। এতে ২টি সুবিধা হয়েছে।
ড্রোন কাজে লাগানোয় প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের যেখানে পরীক্ষা হয়ে চিকিৎসা শুরু করতে ১৫ দিন কেটে যাচ্ছিল তা নেমে এসেছে ৫ দিনে। আবার ওই ব্যক্তির শহরে আসা, পরীক্ষা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ওষুধ নেওয়া এবং গ্রামে ফিরে যাওয়া মিলিয়ে ৯ হাজার টাকার ওপর খরচ হচ্ছিল।
সেখানে ড্রোনের সুবিধা আসায় তা কমে মাত্র ১০০ টাকার কাছে দাঁড়িয়েছে। এটি আপাতত একটি ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ। সফল হলে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা











