এভারেস্টের চুড়ো থেকে উদ্ধার হল সমুদ্রের তলার মাটি, মাছ
এভারেস্টের চুড়োয় পৌঁছে যাওয়া মানে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিন্দু ছুঁয়ে ফেলা। সেই উচ্চতায় পাওয়া গেল সমুদ্রের তলদেশের মাটি। সেই মাটিতে আটকে মাছ।
এভারেস্টের মাথায় পৌঁছতে পারা যে কোনও পর্বতারোহীর স্বপ্ন। এভারেস্ট জয় আজও সহজ কাজ নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছতে হয় এভারেস্টের চুড়ো ছুঁতে।
পৃথিবীর সমতল থেকে পাহাড়ে চড়ে ওই উচ্চতা ছুঁয়ে ফেলা মানুষের সংখ্যা আজও খুব বেশি নয়। কিন্তু সেই উচ্চতায় যে সমুদ্রের তলার মাটি থাকতে পারে এটা জেনে অবাক অনেকেই।
কিন্তু এভারেস্টের সামিট বা একদম চুড়ো থেকে মাত্র ৬ মিটার নিচে পাওয়া গেছে সমুদ্রের তলদেশের লাইম স্টোন। এ মাটি এভারেস্টের চুড়োয় পাওয়া গেছে এমন নয়, সেই মাটির মধ্যে আটকে থাকা নানা চেহারার মাছের জীবাশ্মও উদ্ধার হয়েছে।
এভারেস্টের চুড়োয় মাছ! অনেকের ভেবে অবাক লাগতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন এভারেস্টের চুড়োয় যে সামুদ্রিক মাছের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে তার বয়স ৪৫ কোটি বছর। যে সময় হিমালয় কোনও পর্বত ছিলনা।
সমুদ্রের তলায় মাটির ওপর মাটির স্তর পড়ে দীর্ঘদিন থেকে তা শক্ত হয়ে এক পাহাড়ের জন্ম হচ্ছিল। সেই সময় যে স্তরে স্তরে মাটি সমুদ্রের তলায় জমা হচ্ছিল, তার মাঝে মাঝে আটকে পড়ে অনেক মাছ। যা সেই মাটিতেই আটকে চাপা পড়ে যায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা একটি জীবাশ্মে পরিণত হয়। যেই গরম জলের টেথিস সাগরের তলায় তৈরি হওয়া হিমালয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমে উপরে চলে আসে, জল সরে যায়। সমুদ্রের তলার এভারেস্ট জলের তলার অংশ থাকেনা। হয়ে যায় স্থলভাগের অংশ।
কিন্তু মাটি তো বদলাতে পারেনা। তাই এখনও এভারেস্টের চুড়োয় লাইম স্টোনের মধ্যে থেকে উদ্ধার হচ্ছে ৪৫ কোটি বছর আগের পৃথিবীর জলভাগে ঘুরে বেড়ানো বর্তমানে অবলুপ্ত নানা মাছের জীবাশ্ম।












