মানুষ বসে আছে লেপার্ডের পিঠে, ১১ হাজার বছর পুরনো মূর্তি ঘিরে রহস্য
১১ হাজার বছর পুরনো মূর্তিতে লেপার্ডের পিঠে বসে আছে মানুষ। অদ্ভুত মূর্তির সঠিক অর্থ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না গবেষকেরাও।
এখন থেকে প্রায় ১১ হাজার বছর আগে, যখন শহর নেই, লিখিত ভাষা নেই, তখনই মানুষ পাথরে খোদাই করে রেখে গেল এমন এক দৃশ্য, যার অর্থ আজও বুঝতে পারছেন না প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বে কারাহানটেপেতে খননকার্যের সময় উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার উঁচু এক অসাধারণ পাথরের ভাস্কর্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি মানুষের অবয়ব বসে রয়েছে সরাসরি একটি লেপার্ডের পিঠের উপর।
আর এখানেই রহস্য আরও গভীর। কারাহানটেপেতে এর আগে মানুষ ও লেপার্ডকে একসঙ্গে দেখানো ভাস্কর্য পাওয়া গেলেও সেখানে সম্পর্কটি ছিল উল্টো, মানুষের পিঠের উপর ছিল লেপার্ড। নতুন মূর্তিতে যেন সেই ছবিই সম্পূর্ণ উল্টে দেওয়া হয়েছে।
মূর্তিটি কোনও ভাঙা স্তূপের মধ্যে এলোমেলোভাবে পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ মিটার ব্যাসের একটি ছোট বৃত্তাকার কাঠামোর দেওয়াল ঘেঁষে থাকা পাথরের বেঞ্চের উপর, প্রায় মূল অবস্থানেই এটি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ জায়গাটিও সম্ভবত বিশেষ উদ্দেশ্যে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু মানুষ কেন লেপার্ডের পিঠে? এটা কি শক্তির প্রতীক? শিকারি প্রাণির উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ? কোনও আনুষ্ঠানিক বিশ্বাস? নাকি মানুষ ও বন্যপ্রাণির সম্পর্ক নিয়ে ১১ হাজার বছর আগের এমন কোনও গল্প, যার ভাষা হারিয়ে গেছে, উঠছে প্রশ্ন।
তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রকও বলছে, এই মূর্তি আগে দেখা কোনও পরিচিত শৈলীর সঙ্গে ঠিক মেলে না। তাই উত্তর যতটা মিলেছে, তার চেয়ে হয়ত নতুন প্রশ্নই তৈরি হয়েছে বেশি।











