ছুরির জঙ্গল, সবুজের মাঝে পদে পদে ধারাল ফলা, এ জঙ্গলে কেউ খালি পায়ে হাঁটেন না
জঙ্গলে গাছ থাকে। পশুপাখি থাকে। কিন্তু ছুরির মত ধারাল বস্তুর জঙ্গল কীভাবে থাকতে পারে। এমন জঙ্গল কিন্তু রয়েছে। যাকে ডাকাই হয় ছুরির জঙ্গল বলে।
ছুরি কি তা সকলের জানা। এমন ধারাল জিনিস যা কাজে লাগে ঠিকই, তবে অসাবধান হলে রক্তপাতের কারণ হতে পারে। বড় ধরনের জখম তৈরি হতে পারে শরীরে। সেই ছুরির সঙ্গে জঙ্গলের সম্পর্ক কি? এটা মনে হতেই পারে।
কিন্তু ছুরি এবং জঙ্গলকে এক করে দিয়েছে পৃথিবীর একটিমাত্র জঙ্গল। যে জঙ্গলে কেউ খালি পায়ে ঢুকতে পারেননা। কারণ এ জঙ্গলে ছড়িয়ে আছে ধারাল, সূচাল পাথর। এত রয়েছে যে গুনে শেষ হওয়ার নয়।
একটা সময় ছিল যখন এ জঙ্গল ছিল সমুদ্রের তলায়। তখন সেখানে প্রবালের স্তর তৈরি হয়েছিল। পরে যখন নানা ভৌগলিক ক্রিয়াকলাপের কারণে সেটি উপরে উঠে আসে তখনও এখানে কোনও এমন ধারাল পাথর ছিলনা।
কিন্তু সেই চুনাপাথরগুলির ওপর লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বৃষ্টির ফলে তার নরম অংশ ধুয়ে যায়। থেকে যায় শক্ত অংশ। নরম অংশ ধুয়ে শক্ত অংশ থাকার সময় সেগুলি সূচাল ও ধারাল হয়ে উঠতে থাকে। পাথরের এমন সারি তৈরি হয় চারধারে। যার ওপর পা পড়া মানে ফালা হয়ে কেটে যাওয়া।
এমনই আশ্চর্য এবং ভয়ংকর জঙ্গল রয়েছে মাদাগাস্কারে। সিনজি দে বিমারাহা ন্যাশনাল পার্ক হল সেই জঙ্গল যাকে সারা পৃথিবী চেনে ছুরির জঙ্গল বলে। কারণ জঙ্গল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধারাল চুনাপাথরের ফলার মত পাথর।
জঙ্গলের আনাচেকানাচে এমন পাথর কেবল মানুষ নয়, জীবজন্তুদেরও বড় ক্ষতির কারণ হতেই পারে বলে মনে হলেও এখানে নানা রকমের জীবজন্তু পাওয়া যায়। যারা শিখে গেছে এই ফলা এড়িয়ে কীভাবে বাঁচতে হবে এই জঙ্গলে। এই জঙ্গলে এমন বহু জীবজন্তু পাওয়া যায় যাদের বিশ্বের আর কোথাও গেলে দেখতে পাওয়া যায়না।






