কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজও আছে, বদলে গিয়েছে শুধু আড্ডার চরিত্র
সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছুই। বদলেছেন মানুষ, বদলেছে তাঁদের অভ্যাস। তবু পুরনো দিনের কিছু স্মৃতি আজও একইভাবে বেঁচে আছে।
অর্ণব দত্ত, কলকাতা : ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ — মান্না দের কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা গানের সেই আক্ষেপ আজও বাঙালির মনকে নাড়া দেয়। তবে কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহাসিক কফি হাউসে আড্ডা কিন্তু থেমে নেই। বদলেছে শুধু তার চেহারা, বদলেছেন আড্ডার মানুষজন।
একসময় এখানে বসতেন বাংলার নামী সাহিত্যিক, কবি, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। এখন ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতামন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও দেখা মেলে। অতীতের স্মৃতি ধরে রেখেছে দেওয়ালে সাজানো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মত বিশিষ্টজনের ছবি।
কফি হাউস পরিচালনা করে ইন্ডিয়ান কফি ওয়ার্কার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। সমবায়টির কোষাধ্যক্ষ মহম্মদ সাজিদ হুসেন গত ১০ বছর ধরে এই দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসে ৬০ জন মত কর্মী আছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন ওয়েটার। বাকিরা রান্নাঘর ও দাপ্তরিক কাজে যুক্ত।
এখানে প্রতিদিন আসেন প্রায় ১২০০ অতিথি। জনপ্রিয় কালো কফি ‘ইনফিউশন’-এর বীজ আসে বেঙ্গালুরু থেকে। কফিবীজের দাম বাড়ায় ইনফিউশনের মূল্যও কিছুটা বেড়েছে। সঙ্গে ফিশ কাটলেট, চিকেন স্যান্ডউইচ আর মটন কবিরাজির আকর্ষণ আজও অটুট।
১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমবায়ের উদ্যোগে বহরমপুরের ডাকবাংলো এলাকাতেও কলকাতার আদলে তৈরি হয়েছে একটি কফি হাউস। ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাজিদ। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকা কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউস তাই আজও বাঙালির আড্ডা আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ঠিকানা।











