চিরঘুমের দেশে বাংলার বিখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, একটি যুগের অবসান
প্রয়াত যোগেন চৌধুরী। স্বনামধন্য এই চিত্রকর ভুগছিলেন দুরারোগ্য ক্যানসারে। তাঁকে পুজোর শুরুতেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ৬ বছর রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি।
বাংলার এক অন্যতম প্রতিভার জীবনাবসান। চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন শিল্পী যোগেন চৌধুরী। যাঁর চিত্রকর্ম বাংলার চিত্রশিল্পের ঘরানাকে সমৃদ্ধ করেছিল। নিজের একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছিলেন তিনি।
গত ১ বছর ২ মাস ধরে যোগেন চৌধুরী রক্ত ক্যানসার বা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। ষষ্ঠীর দিন তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
ক্যানসারের পাশাপাশি যোগেন চৌধুরীর ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণও ছিল। ক্রমে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ফলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দিতে হয়। অবশেষে শেষ হল লড়াই। রবিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
১৯৩৯ সালে ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে এক জমিদার পরিবারে যোগেন চৌধুরীর জন্ম। বাবা ছিলেন জমিদার প্রমথনাথ চৌধুরী। যোগেন চৌধুরীর মা খুব সুন্দর আলপনা দিতে পারতেন। ছোট বয়সে মাকে আলপনা দিতে দেখেই তাঁর আঁকার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি।
দেশভাগের সময় যোগেন চৌধুরীর পরিবার ফরিদপুর ছেড়ে চলে আসে হাওড়ায়। সেখানেই তাঁর পড়াশোনা শুরু। সেখানেই তাঁর আঁকার পাঠও শুরু হয়। হাওড়া জেলা স্কুলে যোগেন চৌধুরীর পড়াশোনা। পরবর্তী জীবনে ১৯৬৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন প্যারিসে।
যোগেন চৌধুরীর আঁকায় ভারত ও ইউরোপীয় ২ ঘরানার অঙ্কন পরম্পরার প্রভাবই ছিল। তাঁর অনেক আঁকা বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা পেয়েছে। দুর্গাপুজোর থিমও তিনি তৈরি করেছেন।
২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসাবে রাজ্যসভার সাংসদ হন যোগেন চৌধুরী। ২০২০ পর্যন্ত সাংসদ পদ সামলেছিলেন তিনি। যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ বাংলার শিল্প মহলে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।











