SciTech

বয়স্কদের সাহায্য করতে আইআইটির ছাত্রদের অনবদ্য আবিষ্কার

বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা থাকেন। কিন্তু সন্তানরা ভারতের অপর কোনও প্রান্তে কাজে ব্যস্ত। কেউ বিদেশে থাকেন। কেউবা শহরেই থাকেন। কিন্তু বাবা-মায়ের দেখাশোনার মত সময় তাঁর কর্মব্যস্ত জীবনে নেই। সেক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষরা বাড়িতে একাই থাকেন। শহরে থাকলে ছেলে-মেয়ে খেয়াল রাখেন। তাঁরা বাইরে থাকলে বাবা-মাকে দেখার জন্য কাউকে রাখেন। কিন্তু তাঁরাও তো সারাক্ষণ দেখার জন্য থাকেন না। সেক্ষেত্রে বয়স্কদের নিয়ে অন্যতম বড় চিন্তা পড়ে যাওয়ার।

বয়স হলে শরীরের টাল নষ্ট হয়। ফলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অথবা হৃদরোগ বা অন্য কারণেও পড়ে যেতে পারেন। দরকার তখনই তাঁর চিকিৎসার। কিন্তু কেউ জানতে পারলে তবে না চিকিৎসা। সেসব কথা মাথায় রেখেই এবার ফোনেই এক অভিনব অ্যাপের বন্দোবস্ত করলেন আইআইটি খড়গপুরের বিটেক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের একটি দল।

অ্যাপটির নাম দিয়েছেন তাঁরা ‘কেয়ার৪ইউ’ বা ইংরাজিতে সিএআরই তারপর ইংরাজি ৪ এবং তারপর একটি ইউ। সবটাই একসঙ্গে। অ্যাপটি ডেভেলপ করে তাঁরা যুগান্ত এনেছেন। কী কাজ এই অ্যাপের? অ্যাপটি ফোনে ডাউনলোড করা থাকলে সেই ফোন নিয়ে যদি কোনও বয়স্ক ব্যক্তি পড়ে যান তবে ফোন থেকে নিজে থেকেই কল হবে যিনি ওই বৃদ্ধের দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন তাঁর কাছে। এছাড়া কল যাবে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাদের কাছে। কিন্তু কোথায় পড়ে গেছেন ওই বৃদ্ধ তা কীভাবে বোঝা যাবে? এই প্রশ্নেরও উত্তর রয়েছে এই অ্যাপে। পড়ে যাওয়ার পর ফোন কল যাওয়ার পাশাপাশি ঠিক কোথায় ওই বৃদ্ধ পড়ে গেছেন তাও অ্যাপটি জানিয়ে দেবে।

অ্যাপটির আরও গুণ রয়েছে। বৃদ্ধদের মুড কেমন রয়েছে তা তাঁর ছবি থেকে জেনে যাবে অ্যাপটি। আর ঠিক যেমন তাঁর মুড সে পাবে সেই মত বিভিন্ন উৎসাহব্যঞ্জক কথা শোনাবে। গান শোনাবে। ঠিক সেই গান যা তাঁর ওই সময়ের মুডের সঙ্গে খাপ খায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর মাধ্যমে এই অ্যাপ কাজ করবে।

বয়স্কদের বড় সমস্যা তাঁরা ওষুধ সময়ে খেতে ভুলে যান। এই অ্যাপ কখন কোন ওষুধ খেতে হবে তাও মনে করিয়ে দেবে। এছাড়া থাকছে এসওএস বাটন, ক্যাব বুক করার সুবিধা, কাউকে ফোন করা ইত্যাদি। ইতিমধ্যেই এই অ্যাপটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। ভারতের মত দেশে যেখানে অনেক জায়গাতেই সন্তানেরা রুজির খোঁজে বাইরে থাকেন, সেখানে বৃদ্ধদের দেখাশোনার জন্য বা তাঁদের ভাল রাখার জন্য এই অ্যাপের কার্যকারিতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Tags
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close