Wednesday , July 24 2019
Mathura
মথুরায় যমুনা তীরে বিশ্রাম ঘাট, ছবি - সৌজন্যে - উইকিপিডিয়া

দুটো সন্তান মারা যাওয়াটাই আমার সৌভাগ্যের কারণ, কেন এমন বললেন সাধুবাবা

সাধুবাবা তাঁর গুরুজির নামে উচ্চস্বরে জয়ধ্বনি দিয়ে বললেন,

– বেটা, তখন আমি সত্যিই খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, নিজেকে হতভাগ্য বলে মনে হয়েছিল, তবে এই জীবনে এসে বারংবার মনে হয়েছে, দুটো সন্তান মারা যাওয়াটাই আমার সৌভাগ্যের কারণ, আজকের এই পরমানন্দময় জীবনের কারণ।

গৃহত্যাগের মূল কারণটা জানতে পারলাম। এ পর্যন্ত কোনও প্রশ্ন করতে হয়নি আমাকে। সাধুবাবা চুপ করে রইলেন। জিজ্ঞাসা করলাম,

– বাবা, আপনার কথা থেকে এটুকু বুঝলাম সংসারে সবাই দুঃখী। তাই যদি হয় তবে সুখী কে আর আনন্দময় জীবন বলে যে কথাটা বললেন, সেই আনন্দের সংজ্ঞাটাই বা কি?

এরকম একটা প্রশ্ন করব সাধুবাবা ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। এতটুকু সময় ভাবলেন মাত্র। বললেন,

– হাঁ বেটা, ঠিকই বলেছি আমি, তুই বুঝেছিসও ঠিক। এদেশের রাজা দুঃখী, দুঃখী যারা দারিদ্রে দিন কাটাচ্ছে, দুঃখী গৃহত্যাগী সাধুসন্ন্যাসীরাও, যারা মানসিক দিক থেকে নির্ভর করে আছে অন্যের উপর, কারও না কারও উপর। সুখী একমাত্র সেই-ই যে জয় করতে পেরেছে মনটা। নির্ভরহীন নিঃসঙ্গী মনের মানুষই সুখী। আর বেটা, দুঃখের সংজ্ঞা আছে কারণ ওটা জন্মের পর থেকে চলে সারাজীবনই। দুঃখের উপশম হলে তার নাম সুখ। সুখের প্রকৃত কোনও সংজ্ঞা নেই কারণ ওটা মানুষ পায় সাময়িক। সুখ এত ক্ষণস্থায়ী যে, তা উপলব্ধি করতে করতেই মানুষ আবার ভেসে যায় দুঃখে। তাই সুখের সংজ্ঞা প্রাচীন ঋষিদের কাছেও থেকে গেছে অজ্ঞাত। বেটা তুই আনন্দের কথা বললি, ওটার কোনও অভিব্যক্তি নেই, নেই কোনও প্রতিক্রিয়া। ওটা যার হয় একমাত্র সেই-ই অনুভব করে, আনন্দটা অনুভবের বিষয় যার জীবনে আসে, এসেছে, সে ছাড়া কেউ বোঝে না। আনন্দ এমনই একটা অন্তরের পীড়নহীনক্রিয়া যার কোনও প্রতিক্রিয়া হয় না, যা প্রকাশের কোনও মাধ্যম নেই, ভাষায় নয়, ভাবেও নয়।

সাধুবাবা একটু নড়েচড়ে আরাম করে বসলেন। বুঝলাম অনেকক্ষণ কথা বলা যাবে। বললাম,

– বাবা, আমরা তো সংসারে আছি, তাই এমন কিছু উপদেশ দিন যাতে আমাদের কল্যাণ হয়।

একটু ভেবে বললেন,

– বেটা, সাধু গুরু বৈষ্ণব এঁদের দেহ ও মন উভয়ই শীতল। রাগ নেই। এঁদের মতো হবি। কোনও কারণেই রেগে উঠবি না। সব সময় মানুষের সঙ্গে হেসে কথা বলবি। তাতে ইষ্ট প্রসন্ন হন। খাওয়া দাওয়া যা মন চায় করবি। যদি কোনও কারণে আহার না জোটে, খাবি না। যত সুখাদ্য হোক না কেন, অন্যের উচ্ছিষ্ট খাবি না। এতে শরীর ও মনের যা কিছু বিরুদ্ধভাব, বিরুদ্ধ গ্রহের দোষ তা ভোজন করা মাত্রই অতিদ্রুত ও অতি সূক্ষ্মভাবে সংক্রামিত হয় যিনি উচ্ছিষ্ট ভোজন করেন তার ভেতর। একটু লক্ষ্য করলে তুই দেখতে পাবি, উচ্ছিষ্ট ভোজনকারীদের মানসিক দৃঢ়তা নেই, চরিত্রও দৃঢ় হয় না।

একটু থেমে একবার এদিক ওদিক দেখে নিলেন ঘাড় ঘুরিয়ে। তারপর বললেন,

– বেটা সংসারে তারাই হতভাগ্য, সবকিছু পেয়েও দরিদ্র, যারা অল্পে সন্তুষ্ট নয়, আবার বেশিতেও নয়। ‘আর একটু হলে ভাল হত’ এমনভাব যার একটুও আছে। সব সময় যা পাবি তাতেই সন্তুষ্ট থাকবি, শান্তি থাকবে। ততখানি শান্তি নষ্ট হবে পাওয়ার পর আর যতখানি তুই চাইবি। বেটা, পাপ কাজ করলে বুদ্ধি নষ্ট হয়। পুণ্য কাজে বৃদ্ধি পায় বুদ্ধি। সিদ্ধান্ত নেয়াই হল বুদ্ধির কাজ। মানুষের প্রতিকূল চিন্তাস্রোতকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করে বুদ্ধি। ফলে ধীর স্থির ও শান্ত হয় মন। পুণ্য কাজে মন শান্ত হয়, প্রশান্তি আসে। সাধনভজনে উন্নতি হয়।

কোনও কথা না বলে চুপচাপ বসে রইলাম। সাধুবাবা যতক্ষণ নিজের থেকে বলেন ততটাই লাভ। পরে প্রশ্ন তো আমার আছেই। এবার চোখ দুটো বুজে বললেন,

– বেটা, সুন্দর ফুল ছেড়ে, সুন্দর দেহ ছেড়ে মাছিরা যেমন বিষ্ঠা, ক্ষতের খোঁজ করে তেমন সংসারীদের অধিকাংশই ভগবানের চিন্তা ছেড়ে অন্যের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। যার মুখে অন্যের দোষত্রুটির কথা শুনবি তাকে সব সময় পরিত্যাগ করবি, নইলে তুইও দোষযুক্ত হবি। বাহ্যত এদের পোশাকআশাকে ভাল বলে মনে হলেও এরা নোংরা ও নিচমনা হয়। যে মন ভগবানের চরণে নিবেদিত হবে, সেই মনকে নিচ করবি না। বেটা, প্রস্ফুটিত পদ্ম যেমন জলাশয়ের শোভা বাড়ায়, তেমনই মনমন্দিরের শোভা বাড়ায় ইষ্টনাম। ভগবানের নাম ছাড়বি না কখনও। যারা সামান্য কারণে রেগে ওঠে আবার কোনও কারণ নেই অথচ কারও উপর প্রসন্ন হয়, এদের সঙ্গ করবি না। এই ধরনের মানুষেরা কখনও ভাল মানুষ হয় না। বেটা, আখ আর সাধুতে কোনও তফাৎ নেই। বাইরে থেকে দেখলে এদের ভিতরটা বোঝা যায় না। আখ পেষাই করলে যেমন মিষ্টি রস বেরোয় তেমন সাধুসঙ্গ করলে, সাধুদের আঘাত করলেও ভগবদবাক্য বেরোয়। বেটা সাধুরাও মানুষ, সংসারীরাও মানুষ। মানুষ হয়েও এদের মধ্যে তফাৎ আছে অনেক। সাধুরা মানুষের দোষ দেখে না। সংসারীরা মানুষের গুণগুলি পরিণত করে তিল থেকে তাল পরিমাণ দোষে, তাই সাধুসঙ্গ করবি। তাতে সংসারী মনোভাব কেটে সাধুর ভাব সংক্রামিত হবে মনে। আনন্দে থাকতে পারবি।

একটানা বলে সাধুবাবা একটু থামলেন। বিরক্তির লেশমাত্র নেই চোখেমুখে। জিজ্ঞাসা করলাম,

– বাবা, সাধুসঙ্গ বা সৎসঙ্গের কথা তো আপনার মতো সকলেই বলেন। এখন কথা হল, কে সাধু আর কে অসৎ তা তো বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। এই যেমন ধরুন আমার কথা। বাহ্যত আমি খারাপ নই কিন্তু আমি কতটা সৎ বা অসৎ আমার চেয়ে সেটা কি আর কেউ ভাল জানে? জানে না। বাইরে সাধুর ভেক দেখে তো অনেককেই সাধু বলে মনে হয় কিন্তু কি করে বুঝব যে সে সাধু এবং তার সঙ্গ করলে সত্যিই কল্যাণ হবে মনের, অধ্যাত্মপথের?

কথাটা শোনামাত্র বললেন,

– হাঁ হাঁ বেটা, তুই ঠিকই বলেছিস। বাইরেটা দেখে চট করে বোঝা যাবে না কে সাধু বা সৎ। এমন অসংখ্য বদমাশ হারামজাদা বিশ্বাসঘাতক নারীপুরুষ সংসারে আছে যাদের কথাবার্তা অত্যন্ত মিষ্ট। তবে বেটা ভগবানের এমন খেলা, নিজে সৎ থাকলে, সৎসঙ্গ লাভের ইচ্ছা থাকলে তিনিই সেরূপ সঙ্গ জুটিয়ে দেন। কোনওক্রমে অসৎ কারও সঙ্গ জুটে গেলে তার প্রকৃত রূপটা সৎসঙ্গকারীর সামনে প্রকটিত করে দেন। নীতিশাস্ত্রে একটা কথা আছে, রোগকষ্টে বন্ধু চেনা যায়। মানুষ কে কতটা ধীর তা বুঝতে পারবে অর্থকষ্টে পড়লে। বিপদে পড়লে প্রকৃত শত্রু প্রকাশিত হয়ে পড়ে। কে কতটা ভদ্র সজ্জন তা ধরা পড়ে চরিত্রে। সুন্দর কোমল নির্লোভ নির্বিকার মধুর ও কপট বাক্যহীন ব্যবহারের দ্বারা চেনা যায় সাধু।

সাধুবাবাকে বললাম,

– বাবা, শোকের আঘাতে আহত হয়ে আপনি এসেছেন সাধুজীবনে। ঈশ্বরলাভ বা ওই ধরনের কোনও বাসনা ছিল না যখন বেরিয়েছিলেন সংসার ছেড়ে। এটা তো ঠিক কথা, আপনি কি বলেন?

মাথাটা নেড়ে সম্মতি জানালেন। জানতে চাইলাম,

– এটাই যখন সত্য, তখন এই জীবনে আসার পর ঈশ্বরে বিশ্বাস ভক্তি ভালবাসা আপনি যাই বলুন না কেন, তা আপনার ভিতরে এল কেমন করে? একান্তভাবে এগুলো যে কারও ভিতরে চট করে আসার নয় তা আপনি নিজেও জানেন। তবুও এসেছে, এল কেমন করে দয়া করে বললেন?

এমন প্রশ্নে সাধুবাবার মুখখানায় একটা অবাক হওয়ার ভাব ফুটে উঠল মুহুর্তমাত্র। পরমুহুর্তে সে ভাবটা কেটে গিয়ে আনন্দময়ভাব ছড়িয়ে পড়ল। কপালে দু-হাত জোড় করে নমস্কার জানালেন ভগবানের উদ্দেশ্যে। পরে বয়ে যাওয়া যমুনার দিকে একবার তাকালেন উদাস দৃষ্টিতে। এবার মুখের ভাবটা দেখে মনে হল, নিস্তরঙ্গ যমুনাকে ধরে সাধুবাবা চলে গেলেন অতীত – অতীত – সুদূর অতীতে। শান্ত মধুর কণ্ঠে একটু ভাবতন্ময় অবস্থায় মাথাটা নিচু করে বলতে শুরু করলেন,

– হাঁ বেটা, গৃহীদের যেটুকু বিশ্বাস থাকে ঈশ্বরে, এটুকুই পুঁজি ছিল আমার গৃহত্যাগের সময়। ওইটুকু নিয়ে বা একেবারে না নিয়েও সংসারে চলা যায়, তবে সাধুজীবনে এক ‘কদম’ও চলা যায় না। ওই সম্বলটুকু নিয়ে গৃহত্যাগের পর সাধু নই, একেবারে ভিখারি জীবন যাপন করছি, চলছি এক তীর্থ থেকে আর এক তীর্থে। তখন দীক্ষা হয়নি, সাধুও হইনি কিন্তু বেটা, ছেঁড়া এক টুকরো কাপড় পরে সাধুর বেশেই ঘুরছি। সন্তানবিয়োগের চিন্তা আর অশান্তচিত্তে ঘুরে বেড়াচ্ছি এখানে সেখানে। এতটুকু শান্তি নেই মনে। এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন গুরু মিলে গেল। যে কথা, যাঁর কথা স্বপ্নেও ভাবিনি। দীক্ষা হল নাথ সম্প্রদায়ের এক নির্বিকার সন্ন্যাসীর কাছ থেকে জ্বালামুখীতে।

সাধুবাবা একটু থেমে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়লেন। আমি চেয়ে রইলাম মুখের দিকে। এবার একপলক আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মাথাটা আগের মতোই নিচু করে বললেন,

– বেটা, দীক্ষা হল ঠিকই তবে এ পথের মানুষ তো আমি নই, তাই জপতপ সাধনভজনে কিছুতেই মন বসে না। গুরুতেও বিশ্বাস ভক্তি শ্রদ্ধা ভালবাসা কিছু নেই। কারণ অনেক সংসারে এখনও গুরু দীক্ষা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো নিয়ে কারও মাথাব্যথা, এমনকি সামান্য কৌতূহলটুকুও নেই। স্বামী স্ত্রী সন্তান ও অর্থচিন্তার মধ্যে চোখবুজে চলা দলের ভেড়ার মতো মাথা গুঁজেই চলছে, ঠিক তেমন ছিলাম আমি, ছিল আমার সংসার। তাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেও আসল কাজটা কিছুতেই হচ্ছিল না। এইভাবে চলতে চলতে গুরুকৃপায় একটা ঘটনায় চোখ খুলে গেল। পূর্ণ বিশ্বাস ভক্তি ভালবাসা এল আমার গুরু-ইষ্টে যা আজও আছে অটুট হয়ে।

একটা ‘ঘটনা’ কথাটা শুনে কৌতূহলী হয়ে উঠলাম। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম মুখের দিকে। কোনও কথা বললাম না। এতক্ষণ মাথা নিচু করে কথা বলছিলেন সাধুবাবা। এবার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,

– বেটা, দীক্ষার পর আমি সে বার প্রথম গেছিলাম যমুনোত্রীতে। এখনকার মতো তখন তো আর বাসটাস চলত না। যাওয়া আসা সব পায়ে হেঁটেই করতে হত। যাইহোক, যমুনামাঈ-এর দর্শন করে ফিরছি। যেটুকু খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে গেছিলাম তা ওখানে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। তাই আর কি করব? যমুনামাঈকে সঙ্গে নিয়েই পাহাড়িপথ ধরে চলতে লাগলাম। যাব গঙ্গোত্রী কেদারনাথ হয়ে বদরীনারায়ণ। পথ চলছি অভুক্ত অবস্থায়। তখন যাত্রী সংখ্যা কম আর লোকালয়ও বেশি ছিল না। তাই আহারের চেষ্টা করাটা বৃথা ভেবে পথ চলতে লাগলাম। একসময় পাহাড়িপথে দেহটা একেবারে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে পড়ল। পেটে একটা দানাপানিও নেই। কিছুটা পথ চলছি, বিশ্রাম নিচ্ছি আবার চলছি। এইভাবে চলতে চলতে গলাবুক শুকিয়ে এল। ক্লান্ত দেহটা টেনে নিয়ে গিয়ে বসলাম যমুনামাঈ-এর তীরে। তখন জলপান না করে মনে মনে ভাবছি, ‘হে যমুনামাঈ, হে গুরুজি, কাল রাত থেকে আজ পর্যন্ত দুটো আহার জোটেনি। আমি যে আর পথ চলতে পারছি না। দয়া করে কিছু আহার জুটিয়ে দাও। যদি না দাও তো অন্তত চলার শক্তিটুকু দাও।’ এই কথা মনেমনে বলছি আর কাঁদছি। কাঁদতে কাঁদতে বেটা কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি কোনও খেয়াল নেই। হঠাৎ একটা হাতের স্পর্শে ঘুমটা ভেঙে গেল। ক্লান্তদৃষ্টিতে তাকাতেই দেখলাম মাথার কাছে বসে আছেন আমার প্রাণের ধন গুরুজি। তাঁরই পাশে দেখি উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা অপরূপ সুন্দরী দিব্যজ্যোতিঃসম্পন্না রক্তমাংসের দেহে যমুনামাঈ। দেখামাত্র উঠে বসতে যেটুকু সময়, পলকে মিলিয়ে গেলেন তাঁরা। আমার এ সব কথা তোর বিশ্বাস হবে না, কেউ বিশ্বাসও করবে না। এবার দেখলাম, একটা বড় পাহাড়িগাছের পাতায় কিছু মিষ্টি ফল আর গরম গরম রুটি সবজি। বেটা তখন আমি খাব কিরে, চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ফেললাম আমার গুরুজি, আমার যমুনামাঈ-এর দয়ার কথা, করুণার কথা ভেবে। তারপর আনন্দ সম্বরণ করে গুরুজির প্রসাদ পেলাম পরমানন্দে।

এবার জলভরা চোখে বললেন,

– বেটা, দয়াময় এই ঘটনা ঘটানোর পর থেকে আমার গুরুতে বিশ্বাস ভক্তি ভালবাসা এসেছে, যা অটুট রয়েছে আজও। মৃত্যুর পর এই সংস্কার নিয়ে আমার আত্মা চলে যাবে পরলোকে। যদি আবার জন্ম হয় তাহলে এই বিশ্বাসের সংস্কার নিয়েই জন্মাব, এ বিশ্বাস আমার দৃঢ় হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *