Tuesday , March 19 2019
Ratha Yatra

জগন্নাথ মাসির বাড়ি যাওয়ার পথে কি খান? কি করেন? কে এই গুণ্ডিচাদেবী?

জগন্নাথদেবের মন্দিরের সামনে ‘বড়দাণ্ড’ নামক প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে রথ মহাসমারোহে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তর দিকে গুণ্ডিচা পর্যন্ত।

বিগ্রহ রথে তোলার পর প্রাচীন রীতি অনুসারে ওড়িশার গজপতি মহারাজা পথ পরিস্কার করেন সোনার ঝাঁটা দিয়ে। প্রভু জগন্নাথের এই সেবাকে বলে ছেরাপহরা। এই প্রসঙ্গে চৈতন্যচরিতামৃতে সেকালের চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে এইভাবে –

‘তবে প্রতাপ্রুদ্র করে আপনে সেবন।
সুবর্ণ-মার্জনী লঞা করে পথ সম্মার্জন।।
চন্দনজলেতে করে পথ নিষেচনে।
তুচ্ছ সেবা করে বসি রাজসিংহাসনে।।
উত্তম হঞা রাজা করে তুচ্ছ সেবন।
অতএব জগন্নাথের কৃপার ভাজন।।’

সোনার ঝাঁটা দিয়ে রথ মার্জনের পর রথে জগন্নাথসহ অন্যান্য বিগ্রহ নানান বস্ত্র অলংকারে সাজানো হয়। পুজো করা হয় সমৃদ্ধির সঙ্গে নানা উপচারে। পুজো শেষ হলে প্রথমে টানা শুরু হয় বলরামের। পরে সুভদ্রা ও জগন্নাথের রথের আগে নৃত্যকীর্ত্তন করে বিশেষ বিশেষ সংকীর্তনমণ্ডলী।

এইভাবে রথ টানতে টানতে আনা হয় বলগণ্ডি। জগন্নাথদেবের মন্দির ও গুণ্ডিচার প্রায় মাঝামাঝি স্থানটির নাম ‘বলগণ্ডি’। মধ্যকালীন প্রখর রোদে এখানে বিশ্রাম করেন মন্দিরের পূজারি ও সেবকরা। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন দেব জগন্নাথসহ আর সকলে। এখানে একটু খাওয়াদাওয়া হয়। তিন বিগ্রহের স্বস্তি ও আরামের জন্য পঞ্চামৃতের সঙ্গে সুবাসিত সুশীতল জল দিয়ে দর্পণে অভিষেক, সুগন্ধি চন্দন কর্পূর দিয়ে সর্বাঙ্গে লেপন ও বাতাস করা হয় সুশোভন চামর ও পাখা দিয়ে। তারপর পুজো নিবেদিত হয় বিভিন্ন উপকরণে। তার মধ্যে থাকে সুমধুর পানীয়, নানা ধরণের মিষ্টান্ন, খেজুর, আখ, নারকেল, কলা, প্রিয় ফল, ক্ষীরের তৈরি বিভিন্ন মিষ্টি, সুবাসিত সুশীতল জল, কর্পূর ও লবঙ্গ দিয়ে তৈরি সুগন্ধি মশলা পান ছাড়াও অসংখ্য উপকরণ। একে বলে ‘বলগণ্ডি ভোগ’।

প্রভু জগন্নাথের ভোগ ও পুজোর পর অপরাহ্ণে ধীরে ধীরে রথ চলতে থাকে গুণ্ডিচা মন্দির অভিমুখে। সন্ধ্যায় উপস্থিত হয় মন্দিরদ্বারে। রাতে জগন্নাথসহ সমস্ত বিগ্রহের অবস্থান ও ভোগরাগাদি হয় রথে। পরদিন দিনাবসানে পহাণ্ডিবিজয় করে বিগ্রহদের স্থাপন করা হয় গুণ্ডিচা মন্দিরের যজ্ঞবেদিতে। সেখানেই চলতে থাকে দেবতাদের উদ্দেশে ভোগরাগাদি। যাত্রার চতুর্থ দিনে পঞ্চমী তিথিকে বলে ‘হেরাপঞ্চমী’। ওই দিন গুণ্ডিচায় রথভঙ্গোৎসব হয়। মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নের রানি ছিলেন গুণ্ডিচাদেবী। তার নামানুসারেই গুণ্ডিচাঘর বা গুণ্ডিচা মন্দির।

Advertisements

Check Also

Forest

ভরদুপুরে প্রেতাত্মাকে অবিকল মানুষের বেশে দেখা – শিবশংকর ভারতী

এবার সারা দেহটা জলে মিলিয়ে গেল সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে রোদের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটে গেল যেন নিমেষে। সর্বাঙ্গ আমার ভারী হয়ে গেল।

2 comments

  1. জয় জগন্নাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *