Friday , December 14 2018
Ratha Yatra

প্রভু জগন্নাথের লাফিয়ে লাফিয়ে রথে ওঠার রহস্য জানুন – শিবশংকর ভারতী

ভারতের বৃহত্তম উৎসবগুলির মধ্যে শ্রীপুরুষোত্তম ধামের রথযাত্রা উৎসব অন্যতম। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের পুষ্যানক্ষত্র যুক্ত দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা, চলে দশমী তিথি পর্যন্ত।


প্রথমে নবনির্মিত তিনটি রথকে আনা হয় জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারে। জগন্নাথ রথে আসেন মধ্যাহ্নে। তিনটি বিগ্রহ রথে তোলার দৃশ্যটি নয়নাভিরাম। প্রথমে বলরামকে দড়ি দিয়ে বেঁধে তোলা হয় রথে। কোলে করে নিয়ে রথে বসানো হয় সুদর্শন ও সুভদ্রাকে। সব শেষে রথে তোলা হয় জগন্নাথদেবকে।

জগন্নাথদেবকে রথে তোলার ব্যাপারটি ভারি সুন্দর। বিগ্রহের কোমরে রেশমি দড়ি বেঁধে দোলা দিতে দিতে আনা হয় মন্দিরের বাইরে। একবার দোলা দিয়ে সামনের দিকে পাতা উঁচু কাঠের আসনে বসানো হয় তুলোর গদিতে। আবার ওই আসন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সামনে। আবার আগের মতোই দোলা দিয়ে বিগ্রহকে স্থাপন করা হয় এই ভাবে। দৃশ্যটা দেখলে মনে হয় যেন জগন্নাথদেব চলছেন লাফিয়ে লাফিয়ে।

রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথদেবের সিংহাসন থেকে অবতরণ উৎসবকে পাণ্ডুবিজয় বা পহাণ্ডিবিজয় বলে। উৎসবটি রথ থেকে অবতরণকালেও হয়। ‘পহাণ্ডি’ শব্দ (ওড়িয়া) সংস্কৃত ‘পাদহুণ্ডন’ থেকে এসেছে। পাদহুণ্ডন কথাটির অর্থ ধীরে ধীরে পদবিন্যাস। সুতরাং পহাণ্ডিবিজয় ধীরে ধীরে পদক্ষেপপূর্বক গমন অর্থে ব্যবহৃত হয়। নামানোর সময় ধাপে ধাপে নামানো হয়। তখন প্রত্যেক ধাপে থাকে একটি তুলোর গদি, তার উপরেই অবতরণ করা হয় দারুময় প্রভু জগন্নাথদেবকে।

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় বিশ্বাবসু বংশীয় (স্থানীয় আদিম অধিবাসীবৃন্দ) শবরদের মাধ্যমে। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে তোলা নামানোর কাজে যারা নিযুক্ত থাকেন, তাদের ‘দয়িতা’ বলে। এ সময় দয়িতারাই সব। স্নানযাত্রা থেকে গুণ্ডিচাযাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি অনুষ্ঠানই থাকে দয়িতাদের অধিকারে। পুজোর কাজগুলি যারা করেন তাদের বলে পতি, এরা বিদ্যাপতি বংশীয়।

About Sibsankar Bharati

স্বাধীন পেশায় লেখক জ্যোতিষী। ১৯৫১ সালে কোলকাতায় জন্ম। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। একুশ বছর বয়েস থেকে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকায় স্থান পেয়েছে জ্যোতিষের প্রশ্নোত্তর বিভাগ, ছোট গল্প, রম্যরচনা, প্রবন্ধ, ভিন্নস্বাদের ফিচার। আনন্দবাজার পত্রিকা, সানন্দা, আনন্দলোক, বর্তমান, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, সকালবেলা সাপ্তাহিকী, নবকল্লোল, শুকতারা, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার নিবেদন 'আমার সময়' সহ অসংখ্য পত্রিকায় স্থান পেয়েছে অজস্র ভ্রমণকাহিনি, গবেষণাধর্মী মনোজ্ঞ রচনা।

Check Also

Allahabad

উর্দ্ধবাহু এক সাধুবাবার কথা – অন্তিম পর্ব – শিবশংকর ভারতী

মনটা চায় শরীরের সুখ, হৃদয়ে বাসনা সন্তানলাভের অথচ সন্তানপ্রসবে কষ্ট ভোগ করব না, তা বললে কি আর মায়েদের সন্তান আপনা থেকে কোলে এসে যাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *