কলকাতা : করোনা প্রতিষেধক টিকা আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে দেওয়া শুরু হচ্ছে। ভারতে ওইদিন থেকে শুরু হবে স্বাস্থ্যকর্মী ও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের টিকাকরণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন বছরে এই খুশির কথা আগেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
১৬ জানুয়ারি থেকে টিকাকরণ করতে গেলে তা আগেই বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাওয়া দরকার। আর তা করতে আগে থেকেই সর্বত্র টিকা পৌঁছে যাওয়া জরুরি ছিল। ভারতের অন্যান্য শহরের সঙ্গে সঙ্গে করোনা প্রতিষেধক টিকার প্রথম লট মঙ্গলবার পৌঁছল কলকাতায়।
দমদম বিমানবন্দরে এদিন দুপুরে টিকা নিয়ে এসে পৌঁছয় বিশেষ কার্গো বিমান। মালবাহী ওই বিমানে ৭ লক্ষ টিকা ছিল। একে একে যত্নের সঙ্গে নিময় মাফিক নামিয়ে আনা হয় টিকার প্যাক।
এরপর বিশেষ গাড়িতে সেই প্যাক বিমানবন্দর থেকে পৌঁছয় বাগবাজারের কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল স্টোরে। আগেই জানানো হয়েছিল যে ২টি টিকা ভারতে দেওয়া হবে সে ২টিই রাখা থাকবে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। সেইমত সেগুলিকে বিশেষ তাপমাত্রার গাড়িতে আনা হয়।
কলকাতায় আনার পর এবার জেলায় জেলায় টিকা পৌঁছবে। উত্তরবঙ্গ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি সহ অন্যান্য জায়গায় পৌঁছবে টিকা। তারপর ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে টিকাকরণ।
তার আগে অবশ্য তৎপরতা এখন তুঙ্গে। প্রথমে দেশজুড়ে ৩ কোটি করোনা যোদ্ধাকে টিকা দেওয়া হবে। যার পুরো খরচ বহন করবে কেন্দ্র বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কলকাতায় এদিন যে টিকা পৌঁছেছে তা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিশিল্ড। যা ভারতে পুনের সেরাম ইন্সটিটিউটে তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তারা ১ কোটির ওপর টিকা ছেড়ে দিয়েছে টিকাকরণের জন্য।
ভারতের নিজস্ব টিকা কোভ্যাক্সিনও জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে একইসঙ্গে তার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রানও চলছে। এছাড়াও ভারতে জাইডাস ক্যাডিলার তৈরি করোনা প্রতিষেধক টিকা তৃতীয় পর্বের ট্রায়ালে অনুমোদন পেয়েছে। তবে এখনও সরকার কোভ্যাক্সিনের মত টিকা প্রদানে ছাড় দেয়নি।