Wednesday , November 13 2019
Bilkeshwar Mahadev

হরিদ্বারের ক্ষেত্রপাল মহাদেবের দর্শন কীভাবে পাবেন

হরিদ্বার স্টেশন থেকে ‘হর কী পৌড়ী’ ঘাটের দিকে বাঁ-পাশ ধরে কিছুটা এগোলেই বাবা কালীকমলিওয়ালার ধর্মশালা। আর খানিকটা এগোলে অবাংলাভাষিদের কথায় পড়বে ‘চৌরাহা’, এই চৌমাথা থেকে সামান্য এগোলেই ঢালু পিচের রাস্তা চলে গিয়েছে বাঁ-দিকে। পড়বে রেল পোল। তার নিচে দিয়ে একটু গেলেই ‘মেলা চিকিৎসালয়’, আরও কয়েক পায়ের পর ডানদিকে সামান্য চড়াই ধরে শুরু হয়েছে গভীর জঙ্গল, একেবারেই যেন তপোবন।

এই তপোবনের পরিবেশেই হরিদ্বারের ক্ষেত্রপাল দেবতা বিল্বকেশ্বর মহাদেবের অধিষ্ঠান। ‘হর কী পৌড়ী’ যাওয়ার প্রধান রাস্তা থেকে হেঁটে খুব বেশি হলে মিনিট পাঁচেক। লোকালয়ের কোলেই এমন একটা পরিবেশ বাইরে থেকে কিছুতেই বোঝার উপায় নেই, যেমন বোঝা যায় না সুন্দর পোশাকে মোড়া অসৎ প্রবৃত্তির বদলোকগুলোর বাইরেটা দেখে।

চারদিকে ঘন গভীর বন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে হরিদ্বারের এই বিল্বকেশ্বর পর্বতে। পরম শ্রদ্ধাস্পদ সাধক ভোলানন্দগিরি মহারাজ কথা প্রসঙ্গে তাঁর ভক্ত শিষ্যদের একসময় বলেছেন, কখনও কনখলে, কখনও হরিদ্বারের বিল্বকেশ্বর পর্বতে, কখনও বা তাঁর তাপস জীবন কেটেছে হিমালয়ের গুহা গহ্বরে। তখন রেলগাড়ি হয়নি। বড় বড় হাতি, বাঘ ভালুক দেখা যেত হরিদ্বারের পাহাড় বনে। তপস্যাকালে অনেক রাতই বিনিদ্র অবস্থায় কেটেছে মহারাজের।

সামান্য চড়াই। তারপর মুখ্য তোরণ পেরোতেই বাঁ-দিকে বিশাল ইঁদারা। সামনেই টিনের ছাউনির ভিতর দিয়ে উঠেছে একটি নিমগাছ। এরই গোড়ায় বিল্বকেশ্বর মহাদেবের অবস্থান। মাঝারি উচ্চতা। শিবলিঙ্গের প্রায় সাড়ে তিন ভাগ পিঙ্গল বর্ণ, বাকি উপরের অংশ গাঢ় খয়েরি রঙের পাশ ঘিরে হালকা সাদা রং। সচরাচর দেখা শিবলিঙ্গের রঙের সঙ্গে এ রঙের কোনও মিল নেই। এই শিবলিঙ্গই বিল্বকেশ্বর মহাদেব নামে হরিদ্বারে প্রসিদ্ধিলাভ করেছে অজ্ঞাত কোনও কাল থেকে।

 

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *