National

কঠোর নিয়মের বেড়াজালে মুড়ছে কুম্ভের শহর

দেশে করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে হরিদ্বারে ১ এপ্রিল থেকে কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের ঢল নামতে চলেছে। করোনা ঠেকাতে হরিদ্বারকে কড়া বলয়ে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।

নয়াদিল্লি : হরিদ্বারের কুম্ভ মেলায় বিপুল জনসমাগম হয় পুণ্যস্নানের জন্য। ২০১০-এর পূর্ণকুম্ভের পর এই বছর পূর্ণকুম্ভ আয়োজিত হচ্ছে হরিদ্বারে। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে কুম্ভমেলা হতে চলেছে অনেকটাই আলাদা। পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পুরো হরিদ্বার শহরকেই বেঁধে দেওয়া হচ্ছে নিয়মের বেড়াজালে।

কুম্ভ উপলক্ষে কড়া নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ উত্তরাখণ্ডের প্রধান স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠিতে সেই নির্দেশই দিয়েছেন। কুম্ভমেলায় কোভিড-১৯-এর ছড়িয়ে পড়া রুখতেই কড়াকড়ির ব্যবস্থা।

হরিদ্বারের কুম্ভমেলায় স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যদি কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে অনেক মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। সেই জন্য প্রথম থেকেই বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হয়েছিল মার্চের ১৬ ও ১৭ তারিখ। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী হরিদ্বারে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা এখন যা আছে তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই অতি দ্রুত কোভিড-১৯-এর পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকারকে।

হরিদ্বারে এখনই যা নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন স্থানীয় মানুষ ও ১০ থেকে ২০ জন কুম্ভ মেলার জন্য আগত পুণ্যার্থীর শরীরে করোনা পাওয়া যাচ্ছে। যা এপ্রিল থেকে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এপ্রিল থেকে কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে ভিড় আরও বাড়তে চলেছে।

ফলে দরকার এখন আরও নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো। যাতে দ্রুত করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা যায়। তাতে তাঁদের পক্ষে আরও মানুষকে সংক্রমিত করার সম্ভাবনা কমবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভারতের অনেক কোণায় আছড়ে পড়ছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যেখানে সংক্রমণ নেমে গিয়েছিল ১০ হাজারের কোঠায়, সেখানে সংক্রমণ ৬৮ হাজারও একবার পার করেছে।

১ মাসের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা এতটা বেড়ে যাওয়ায় অশনি সংকেত দেখছে কেন্দ্র। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তেমনই আরও ১১ রাজ্যেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More