গয়না বেচে ছেলের স্বপ্নপূরণে জুতো কিনে দিয়েছিলেন মা, সেই ছেলে নজর কাড়লেন দেশের
ভারতে ক্রিকেটের একটা আলাদাই আকর্ষণ আছে। আইপিএল চলছে। সেই আইপিএল-এ অভিষেকেই নজর কেড়ে নিলেন দারিদ্রের মধ্যে বড় হওয়া এক তরুণ ক্রিকেটার।
বাবা কৃষক। তাও আবার জীবনের একটা সময় পায়ের সমস্যার কারণে সে কাজটাও থমকে যেতে বসেছিল। পরিবারে দারিদ্র ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সন্তান ক্রিকেট খেলতে ভালবাসতেন। তাঁর বাড়ির কাছে মাঠে চলে যেতেন খেলতে। টেনিস বল দিয়ে বল করতেন।
সেইসময় স্থানীয় ক্রিকেট প্রশিক্ষকের নজরে পড়েন তিনি। সেই ব্যক্তিই তাঁকে ক্রিকেট শেখায় উৎসাহ দেন। ক্রিকেট শিখতে গিয়ে ওই তরুণ যা জানতে পারেন তাতে তাঁর ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতেই পারত।
তিনি জানতে পারেন একটি ঠিকঠাক জুতোর দাম ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। যা তাঁর মত পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব। ক্রিকেট খেলা তাঁর আর হবেনা।
এটা ভেবে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল। বাড়িতে তিনি জানান জুতোর এত দাম। এ টাকা খরচ করলে পরিবারের খাবার পয়সা থাকবেনা। সেখানেই তাঁর মা এসে পাশে দাঁড়ান।
ছেলের স্বপ্ন পরিবারের দারিদ্রের জন্য মুছে যেতে দেননি তিনি। নিজের গয়না বেচে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে ক্রিকেট খেলার ১০ হাজারি জুতো কিনে দেন। ছেলে কিন্তু মায়ের সেই স্বার্থত্যাগের সম্মান রেখেছিলেন। ভারতের নতুন প্রতিভা হিসাবে সামনে আসেন তিনি।
কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দলেও নেয় ২০২৪ সালে। কিন্তু ২ বছরে একটা ম্যাচও খেলতে নামায়নি। ২০২৬-এ সেই তরুণ প্রতিভা সাকিব হুসেনকে দলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বসিয়ে না রেখে বিহারের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা সাকিবকে মাঠেও নামায়।
আর মাঠে নেমেই তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন সাকিব। আইপিএল ডেবিউতেই দেখিয়ে দিলেন তাঁর ক্ষমতা। একসময় জুতোর দামের জন্য যে ছেলেটির ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে বসেছিল, তিনি এখন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা
