মহাকাশ থেকে নজরদারি, ভারত থেকে ৩ বাজপাখি অন্য মহাদেশে ভ্রমণে ব্যস্ত
মহাকাশ থেকে তাদের নজরে রাখার ব্যবস্থা করেছিল ভারত। ৩ বাজপাখি এখন অন্য মহাদেশে পৌঁছে সীমান্ত না মানা মুক্ত বিহঙ্গে পরিণত হয়েছে।
এরা উড়ে যায় দেশ থেকে দেশান্তরে। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে। ডানার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। যেখানে ডিম পাড়ে সেখান থেকে পাড়ি দিয়ে ২২ হাজার কিলোমিটার উড়ে যায় তারা। পৌঁছয় অন্য মহাদেশে। মাঝে কিছুটা বিশ্রাম। আবার উড়ে চলা। এটাই তাদের প্রতিবছরের নিয়ম করে উড়ান।
পৃথিবীতে যত পাখি রয়েছে তাদের মধ্যে এই পাখিরা দূর ভ্রমণে সিদ্ধহস্ত। এরা বাজপাখি। তবে বাজপাখির নানা প্রজাতি হয়। এদের বলা হয় আমুর ফ্যালকন বা আমুর বাজপাখি।
এরা চিনে ডিম পাড়ে। তারপর উড়তে উড়তে পৌঁছয় আফ্রিকা। মাঝে ভারতের নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের বিশাল পাহাড় জঙ্গল তাদের বড় প্রিয়। এখানে প্রতিবছর তারা উড়তে উড়তে পৌঁছয় অক্টোবরে। তারপর সেখানে মাস খানেক থেকে নভেম্বরে ফের উড়ে যায়।
এই ১ মাসের ভারতে থাকাটা আসলে এদের বিশ্রামস্থল। এখানে তারা একসঙ্গে বিশ্রাম নেয়। খাবারের অভাব নেই। সবুজের অভাব নেই। তাই এখানে তারা বেশ আনন্দেই দিন কাটায়।
গত নভেম্বরে এমনই ৩টি বাজপাখিকে ট্যাগ করে দেয় মণিপুর সরকারের বন বিভাগ এবং ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিনিধিরা। প্রসঙ্গত ট্যাগ করা মানে কোনও পাখির পায়ে ছোট্ট ধাতব বা প্লাস্টিকের ব্যান্ড লাগিয়ে দেওয়া। যা দিয়ে তাদের আগামী দিনে নজরে রাখা যায়।
যে ৩টি বাজপাখির পায়ে এই ট্যাগ করা হয়েছিল গত নভেম্বরে তাদের নামও দেওয়া হয়। আহু, আলং এবং আপাপাং। এই ট্যাগের সাহায্যে এদের মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ মারফত নজরে রাখা সম্ভব।
নভেম্বরে এদের উড়িয়ে দেওয়া হয়। তারা পাড়ি দেয় আফ্রিকার দিকে। পৌঁছেও যায় খুব দ্রুত। মাত্র ৯ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তারা আফ্রিকা পৌঁছে যায়। তারপর সেখানে নিজেদের মত এক একটা দেশে উড়ে বেড়াতে থাকে।
এক দেশ থেকে অন্য দেশেও চলে যাচ্ছে ইচ্ছা হলে। হালে আহু রয়েছে সোমালিয়ায়। আলং রয়েছে বোতসোয়ানায়। আর আপপাং রয়েছে জিম্বাবোয়েতে। এরা ফের ফিরবে শরৎকালে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা













