Kolkata

দুই ২৪ পরগনায় ধ্বংসলীলা, লণ্ডভণ্ড কলকাতা

প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব। আর তাতেই কার্যত ধ্বংস করে দিয়ে গেল গ্রাম থেকে শহর। কত ধ্বংস তা এখনও পরিস্কার নয়। মুখ্যমন্ত্রীও এদিন কার্যত ভেঙে পড়েছেন ধ্বংসের চেহারা দেখে।

কলকাতা : এমন ঝড় এ জীবনে অনেকেই দেখেননি। কলকাতার ওপর দিয়ে এই ঝড় আগে কবে বয়ে গেছে তা দুম করে বলতে পারছেন না কেউই। বয়োজ্যেষ্ঠরাও। এমন প্রলয়, এমন ধ্বংস যা অনুমান করা পর্যন্ত কঠিন, সেটাই বাস্তবে দেখলেন দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলির মানুষ। এমনকি বাদ গেলনা নদিয়া, বর্ধমানও।

তবে ধ্বংসের চেহারা সবচেয়ে ভয়ংকর দুই ২৪ পরগনায়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নবান্নে বলেন, ২ পরগনা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি ঠিক কত তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

দমদমে এদিন ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এমনই একটা গতি নিয়ে কলকাতার ওপর দিয়েও বয়ে গেছে আম্ফান। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে এই ঝড় নাগাড়ে একই গতিতে বয়েছে। তাণ্ডবের শব্দ কানে শুনেছেন, চোখে দেখেছেন মানুষজন।

এদিন দুপুর আড়াইটেয় সুন্দরবন দিয়ে প্রবেশ করে এই সুপার সাইক্লোন। তারপর তা ক্রমশ স্থলভাগ ধরে প্রবেশ করতে থাকে। একটা দীর্ঘ সময় ধরে এই ঝড় প্রবেশ করে স্থলভাগে। বিশালাকায় প্রস্থ ও উচ্চতার এই ঝড় খুব বড় এলাকা নিয়ে প্রলয় চালাতে চালাতে এগোতে থাকে।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় এলাকা তো বটেই, এমনকি বহু গ্রামগঞ্জের ঠিক কী পরিস্থিতি তা প্রশাসনের কাছেও স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় আগামী ২-৩ দিনেও ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হবেনা। ধীরে ধীরে এলাকার ক্ষয়ক্ষতি জানতে পারা যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যও চেয়েছেন তিনি।

কলকাতা ও তার সংলগ্ন বহু জায়গায় এদিন রাস্তার ওপর গাছ উপড়ে পড়ে। ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে পড়ে। অনেক বাড়ির চাল উড়ে যায়। বেশ কিছু বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। তবে ক্ষয়ক্ষতি যেমন স্পষ্ট নয়, তেমনই এখনও স্পষ্ট নয় এই ঝড় ঠিক কত মানুষের প্রাণ কেড়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ জন মানুষের প্রাণ গেছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

এই ঝড় মধ্যরাত পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বৃহস্পতিবার। দক্ষিণবঙ্গেরও দুই ২৪ পরগনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের পর প্রশাসন সবুজ সংকেত দিলে তবে বাড়ির বাইরে মানুষের বার হওয়া উচিত বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ঝড়ের মূলভাগে কলকাতার ওপর দিয়ে চলে গেলেও এদিন রাত পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই প্রবল ঝড়ের দাপট শোনা গেছে। সঙ্গে বৃষ্টি। বাংলাদেশে ঝড়টি প্রবেশ করার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনার অনেক এলাকায় ঝড়বৃষ্টি চলবে বলেই পূর্বাভাস।

Tags
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close