গভীর সমুদ্রে মাকড়সায় চড়ে ঘুরছে কাঁকড়া, দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা
সমুদ্রের ২ কিলোমিটার গভীরে বিশাল সামুদ্রিক মাকড়সার গায়ে চেপে ঘুরছে ছোট কাঁকড়া। রহস্যময় এই আচরণে অবাক গবেষকরাও।
সমুদ্রের প্রায় ২০০০ মিটার গভীরে এমন এক দৃশ্য ধরা পড়েছে যা দেখে গবেষকরাও বিস্মিত। বিশাল আকারের এক গভীর সমুদ্রের মাকড়শার গায়ে শক্ত করে চেপে বসে রয়েছে ছোট্ট চিংড়ির মতো কাঁকড়া। যেন গভীর সমুদ্রেও চলছে লিফট নিয়ে ভ্রমণ।
চিলির প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রান্তসীমায় রোবোটিক সাবমার্সিবল সুবাস্তিয়ান দিয়ে সমুদ্রতল পর্যবেক্ষণ করছিলেন গবেষকরা। সেই সময় ক্যামেরায় দেখা যায় বিশাল সামুদ্রিক মাকড়সার শরীরে একধরনের ছোট সন্ধিপদ প্রাণিকে।
প্রথমে ঘটনাটি নিছক আকস্মিক সংস্পর্শ বলে মনে হলেও পরে একই ধরনের দৃশ্য আরও কয়েকটি সামুদ্রিক মাকড়সার শরীরেও দেখা যায়।
গবেষকদের নজরে এসেছে এই সন্ধিপদগুলি বিশেষ করে সামুদ্রিক মাকড়সার পাল্প এবং ডিম বহনকারী উপাঙ্গ আঁকড়ে ধরে থাকে। ফলে ধারনা করা হচ্ছে এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা নয়। বরং তাদের আচরণেরই অংশ হতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এত গভীরে এই ছোট কাঁকড়া দানবাকৃতি সামুদ্রিক মাকড়সার শরীরে চেপে ঘোরে কেন? এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সুবিধার জন্য? খাবারের সন্ধানে? নাকি বড় প্রাণিটির গায়ে থাকলে শিকারি প্রাণির হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়?
এখনও এর কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই। সেই কারণেই এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি করেছে। সমুদ্রের অন্ধকার জগতে, যেখানে প্রতিটি খাবার ও প্রতিটি যাত্রাই কঠিন, সেখানে হয়তো অন্য প্রাণির শরীরই হয়ে উঠছে চলন্ত ট্যাক্সি। গবেষণাটি চিলির জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের নেতৃত্বে করা হয়েছে এবং ইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।











