Tuesday , March 19 2019
Lingaraja Temple
ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দির, ছবি - সৌজন্যে - উইকিপিডিয়া

আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মনকে আনন্দময় রাখতে বীর্যধারণের আবশ্যকতা

কথাগুলো শুনলাম। প্রশ্ন এল মনে। জানতে চাইলাম,

– বাবা, সংসার মানেই নারীপুরুষের সম্যক যোগাযোগ। কুমারীকে দেখে কামের প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। কু-অভ্যাসে ক্ষয় করছে শুক্র, যারা সংসারে থাকে তাদের পক্ষেই বা বীর্যধারণ করা কি করে সম্ভব? তাহলে তো দেখা যাচ্ছে ভগবানের রাজত্বে কেউই এগোতে পারবে না।

কথাটা শুনে এতটুকু দেরি করলেন না। সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়িয়েও গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

– সংসারে অসম্ভব কিছু নয়। বীর্যধারণ করতে হলে প্রথমে সংযমে রাখতে হবে মনটা। এরজন্য চাই সৎসঙ্গ, সাধুসঙ্গ আর সদগ্রন্থপাঠ। এগুলো মনের উপর ক্রিয়া করে দারুণভাবে, যা বীর্যধারণের সহায়ক। হাজার কাজের মধ্যে সময় করে এ কাজগুলো নিয়মিত করা চাই। নইলে কোনও ফল হবে না। মনকে বাঁধার দড়ি হল ওই তিনটে।

এবার হাসতে হাসতে বললেন রসিকতার সুরে,

– নারী বল আর পুরুষই বল, ভোগের জন্য মন তো ছুকছুক করবেই। তাই মনে বিপরীত ভাবের সৃষ্টি হয় এমন যে কোনও বিষয় আর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নারীর সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এটাও অভ্যাস করতে হবে। এড়িয়ে চলার অভ্যাসটাই তো একটা যোগ, অভ্যাসযোগ, সংযমতা। গীতায় ভগবান বলেছেন, ‘বহ্নির যেমন উষ্ণতা, চঞ্চলতাই মনের ধর্ম। যোগ ও অভ্যাসের দ্বারা মনকে সংযত করতে হয়।’ বেটা, অভ্যাসযোগ ছাড়া কিছুতেই বীর্যধারণ করা সম্ভব নয়।

কথাটা শুনে ভাবলাম একজন গৃহত্যাগীর পক্ষে যে কাজটা যত সহজে হবে, সেটা কি সংসারীদের পক্ষে…। এতটুকুই ভেবেছি মাত্র। ভাবনায় ছেদ টেনে সাধুবাবা বললেন,

– চুটিয়ে মেয়েমানুষের সঙ্গ করব আবার ভগবানের কোলেও শোব, তা হয় না। ইন্দ্রিয়ের ভোগলালসা কখনও মেটে না। তার তৃপ্তিও নেই, চাহিদাও অফুরন্ত। শুধু সংযমেই এর নিবৃত্তি।

এতক্ষণ পর জিজ্ঞাসা করলাম,

– বিড়ি খাবেন বাবা, আছে আমার কাছে।

হাত নেড়ে মুখেও বললেন,

– বিড়িটিড়ি খাই না তবে বললি যখন দে একটা।

দুটো ধরালাম, একটা দিলাম সাধুবাবার হাতে। বারকয়েক ফুকফুক করে টেনে তিনি বললেন,

– তোর প্রশ্নের উত্তরে বলি, বিবাহ করে ভোগ করব না, সংসারে থেকে একথা চলতে পারে না। সম্ভবও নয়। তবে ভোগটা অবশ্যই হতে হবে অতি পরিমিত। কোনওভাবেই যেন ইন্দ্রিয়ের লালসাকে অতিক্রম না করে। ঠিক এইভাবে চলতে থাকলে পুরুষের বীর্যধারণ ও মেয়েদের সংযমক্ষমতা যাবে বেড়ে। ক্রমে ক্রমে মন থেকে সরে যাবে কামচিন্তা, ভোগবাসনা ও বিষয়ে আসক্তি। বীর্যধারণ ও সংযমে ইন্দ্রিয়ের বিপরীতমুখী ক্রিয়া রুদ্ধ হয়। ফলে মনের উপর ওগুলোর আর ক্রিয়া হবে না।

মনেমনে বললাম, সংসারে থাকলে বুঝতে পারতেন কত ধানে কত চাল হয়। হেসে ফেললেন সাধুবাবা। বললেন,

– ভাবছিস কঠিন! একটু অভ্যাস করলে সকলেই পারবে। আসলে কি জানিস, সংসারীদের আর সব বিষয়ে চেষ্টা থাকলেও এ বিষয়ে নেই। কয়েকদিন দুচারটে ধর্মের বই, সাধকের জীবনী পড়ে, দুচারদিন সংযমে থাকে। তারপর কাম ঠেলা মারলে ভাবে ‘দূর শালা, ওসব আমার দ্বারা হবে না।’ মানুষ যখন, তখন মানুষের দ্বারা হবে না তো কি কুকুর বিড়ালের দ্বারা হবে?

সাধুবাবা বসে আছেন একইভাবে ধীর স্থির হয়ে। চোখদুটো লক্ষ্য করছে তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা। মাঝেমাঝে তাকাচ্ছেন আমার মুখের দিকে। জানতে চাইলাম,

– একটু আগে বললেন বীর্য অস্থির হয়। সেটা কি এবং কেমন করে হয়?

মুখমণ্ডল একটু গম্ভীর হয়ে এল। আমার চোখের উপর নিজের দৃষ্টি রেখে বললেন,

– সাধারণভাবে কোনও নারীকে দর্শন বা চিন্তা করলে মনে একটা প্রতিক্রিয়া হয়। সেটা ভাল বা খারাপ। অনেক সময় নাও হতে পারে। নারীর বয়েস যাইহোক না কেন! মনে কোনও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হলে শুক্র চঞ্চল হয় না। কোনও নারীকে দেখে বা স্পর্শ করে অথবা না দেখেও যদি তার রূপ কিংবা দেহ নিয়ে মনে কোনও চিন্তা আসে তাহলে বাহ্যত প্রায়ই দৈহিক কোনও উত্তেজনা আসে না। তবে তা না আসলেও জানবি ভিতরে বীর্য চঞ্চল হয়ে ওঠে সৃষ্টির জন্যে। দর্শন স্পর্শ ও চিন্তা থেকে এটা হয় অজ্ঞাতে। কারণ শুক্রই সৃষ্টির বীজ। বপনের চেষ্টায় সে উন্মুখ হয়ে বসে আছে। ক্ষেত্র পেলে ভাল নইলে অলক্ষ্যেই উত্যক্ত করবে। পতনেই যে তার স্বস্তি। তাতে সৃষ্টি হোক বা না হোক।

বিড়িটা নিভে গেছে। ধরা আছে সাধুবাবার দু’আঙ্গুলের ফাঁকে। চুপ করে রইলেন কিছুক্ষণ। কোনও প্রশ্ন করলাম না। এদিক ওদিক তাকালেন বার কয়েক। বললেন,

– বেটা, সংসার বা সাধুজীবনে সত্যিই যদি আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মনকে আনন্দময় রাখতে চায় তাহলে তাকে বীর্যধারণ করতেই হবে। সাধনভজন করলাম আবার সমানে শুক্রক্ষয়ও করলাম, তাতে লাভ হবে না কিছু। ভগবানের নামগানে কল্যাণ হবে, তবে মনের ব্যাধি যাবে না।

এবার হাতজোড় করে খুব বিনীতভাবে বললাম,

– বাবা, অপরাধ যদি কিছু না নেন তো একটা কথা জিজ্ঞাসা করি।

এইভাবে বলায় সাধুবাবা মুখের দিকে তাকালেন তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে। যেন বুঝতে চেষ্টা করলেন আমার মনের কথা। কিছু বুঝলেন কিনা বুঝতে পারলাম না। মুখে নয়, ইশারায় সম্মতি জানিয়ে বললেন কি জানতে চাই? অভয় পেয়ে বললাম,

– বিয়ে তো নিশ্চয় করেননি?

ঘাড় নেড়ে জানালেন না করেননি। প্রশ্ন করলাম,

– সাধুজীবনে আসার আগে বা এই জীবনে এসে কি কখনও কু-অভ্যাসে লিপ্ত হয়েছেন?

কথাটা ধরতে পারলেন না। বুঝিয়ে বলতেই মুখের ভাবে কেমন যেন একটা পরিবর্তন হল। ভাবতে পারেননি এমন একটা কথা জিজ্ঞাসা করব। মনে হল বিব্রত হলেন। পর মুহুর্তেই কাটিয়ে উঠলেন ‘কেমন যেন’ ভাবটা। পরে নিঃসংকোচে বললেন,

– শঙ্করজির কোলে বসে তোকে মিথ্যা বলব না। জীবনে একদিন একবার মাত্র লিপ্ত হয়েছিলাম সাধুজীবনে আসার পর। তারপর আর নয়।

জিজ্ঞাসা করলাম,

– বিষয়টা কিভাবে, কার কাছে, কেমন করে অবগত হয়েছিলেন আপনি?

মিনিট পাঁচেক চুপ করে রইলেন। দেখে মনে হল যেন খুব চিন্তা করছেন। হাতের পোড়া বিড়িটা ফেলে দিয়ে বললেন,

– একদিন এক সাধুবাবার সঙ্গে আলাপ হয় প্রয়াগে। দুজনে একসঙ্গে ছিলাম তিনদিন। বিয়ের পর দুটো বাচ্চা আর বউ রেখে সাধু হয়েছিলেন তিনি। নানা বিষয়ে আলোচনা করতাম। সাধুদের সঙ্গে সাধুদের যেমন হয়। তার কাছ থেকেই জানতে পারি কৌশলটা। মাত্র ১৪/১৫ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছি। ওসব বিষয়ে তখন কিছু জানতাম না, বুঝতামও না কিছু।

একটু থেমে বললেন,

– উল্টে মনটা আমার খুব খারাপ হয়ে গেল। গুরুজির কাছে জানালাম আমার কু-কর্মের কথা। সত্যি কথাই বললাম। রাগ করলেন না তিনি। শুধু বললেন, ‘এয়সা কাম অউর কভি না করনা। বেটা, ইস অভ্যিয়াস মে সাধুজীবন তেরা পুরা বরবাদ হো যায়গা।’ ব্যস, আর কখনও ওকাজে লিপ্ত হইনি কোনওদিন।

খুশি হলাম সাধুবাবার স্বীকারোক্তি শুনে। অসংখ্য সাধুসন্ন্যাসীদের সঙ্গে কু-অভ্যাস প্রসঙ্গে কথা হয়েছে আমার। জিজ্ঞাসা করেছি কখনও তারা ওই অভ্যাসে লিপ্ত হয়েছেন কি না? প্রায় সব সাধুসন্ন্যাসীই উত্তর দিয়েছেন আন্তরিকতার সঙ্গে দ্বিধাহীন হয়ে।

এই প্রসঙ্গে যেটুকু জেনেছি তা থেকে প্রথমে আসি পাঁচ থেকে বারোবছর বয়সের মধ্যে গৃহত্যাগ করেছেন এমন সাধুদের কথায়। এদের মধ্যে প্রায় কেউই কু-অভ্যাসের বিষয়ে কিছু জানেন না। প্রশ্ন করে নিজে লজ্জায় পড়েছি বহুবার। চলে গেছি অন্য প্রসঙ্গে বুঝতে না দিয়ে। সাধুমন যদি কলুষিত হয় এই ভেবে। আবার ওই বয়সের মধ্যে অতি স্বল্পসংখ্যক গৃহত্যাগী সাধু পেয়েছি যারা বিষয়টা জ্ঞাত হয়েছেন সাধুজীবনে। লিপ্ত হয়ে পরে পরিত্যাগও করেছেন।

সাধুদের মধ্যে তেরো থেকে সতেরোর মধ্যে যারা গৃহত্যাগ করে এসেছেন অধ্যাত্মজীবনে, তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক সাধু বিষয়টি জানেন। কু-অভ্যাসে কেউ সাময়িক, কেউ লিপ্ত ছিলেন বেশ কিছুদিন সাধুজীবনে। পরে কু-ফল উপলব্ধি করে সংযমতার মাধ্যমে তা থেকে মুক্ত হয়েছেন। আর উক্ত বয়সের মধ্যে এমন কিছু সাধুসন্ন্যাসী পেয়েছি যাদের ও বিষয়ে কোনও ধারণাই নেই। গৃহত্যাগের আগেও না, পরেও না, তবে এদের সংখ্যা অতি নগণ্য।

এবার আঠারো থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে গৃহত্যাগী সাধুদের কথা। এদের মধ্যে যারা বিয়ে করে অথবা কুমার অবস্থায় গৃহত্যাগ করেছেন তাদের প্রত্যেকেরই সম্যক ধারণা আছে বিষয়টি সম্পর্কে। কেউ দীর্ঘদিন, কেউ স্বল্পকালের জন্য, কেউ গৃহত্যাগের পূর্বে, কেউ পরে লিপ্ত হয়েছিলেন কু-অভ্যাসে। পূর্বে লিপ্ত ছিলেন, সাধুজীবনে নয় এমন সাধুর সংখ্যাই সর্বাধিক। এরা প্রায় সকলে বলেছেন অধ্যাত্মজীবনে আসার পর সংযমে কাটিয়েছেন সাধুজীবন। তখন কখনও কখনও সংযমতার বাঁধ ভেঙ্গেছে প্রাকৃতিক নিয়মে।

প্রসঙ্গ পালটে গেলাম অন্য প্রসঙ্গে। জিজ্ঞাসা করলাম,

– বাবা, সৎপথে যারা আছে তাদের তো দেখেছি সংসারে বড় কষ্টে আছে। প্রায় সবদিক থেকেই বলতে পারেন। অসৎপথে যারা জীবনযাপন করছে, তারা যথেষ্ট ভাল আছে, সর্বাধিক স্বাচ্ছন্দ্যেও আছে। দেখুন বাবা, সংসারে দুঃখ কষ্ট অশান্তি কমবেশি সৎ অসৎ সকলের আছে। আপনি বলবেন এসব পূর্বজন্মের কর্মফলেই হয়। তাই যদি হয়, সৎ পথে থেকে কষ্ট পেয়ে ভগবানকে ডেকে পরজন্মে সুখ পাওয়া অথবা অসৎভাবে সংসারে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটানো, কোনটা সংসারীদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য? যে জন্মটা চোখে দেখা যায় না, সে জন্মের কথা এখন ভেবে লাভ কি?

কথাটা মন দিয়ে শুনলেন তবে উত্তর দিলেন না। মাঝে মাঝে তাকাচ্ছেন মুখের দিকে আবার চোখ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন অন্যদিকে। এইভাবে কেটে গেল প্রায় মিনিট দশেক। জিজ্ঞাসা করলাম,

– বাবা, আমার কথাটা কি আপনাকে বোঝাতে পেরেছি?

কোনও কথা বললেন না মুখে। ঘাড় নেড়ে জানালেন বুঝেছেন। আরও প্রায় মিনিট সাতেক কাটার পর বললেন,

– বেটা, প্রশ্নটা করেছিস বেশ সুন্দর তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে তোর এ প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারব না।

কথাটুকু বলে চুপ করে রইলেন। চোখটা আমার মুখের উপরেই। আমি কি ভাবছি এটাই যেন বোঝার চেষ্টা করছেন সাধুবাবা। দৃষ্টিতে এমন একটা ভাব।

প্রায় সব সাধুদের এই প্রশ্নটা করেছি সাধুসঙ্গের সময়। এক একজন সাধু উত্তর দিয়েছেন এক এক রকমের। কোনওটাই মনোগ্রাহী হয়নি আমার। এখন তাদের কথাই ভাবছি মনেমনে। সাধুবাবা বললেন,

– বেটা, পরমাত্মার সংসার এটা। এখানে মানুষের বিচারে এমন কোনও বিষয় বা বস্তু নেই যাকে সৎ বলা যায়। আবার অসৎ বলতে পারি এমন কোনও বিষয় বা বস্তু নেই। তোর আমার বিচারে যেটা ভাল বা সৎ সেটা অন্যের কাছে না-ও হতে পারে। আবার অন্যের কাছে যেটা সৎ বলে বিবেচিত সেটা তোর আমার কিংবা অন্য কারও কাছে অসৎ বলে মনে হতে পারে। আসলে সৎ বা অসৎ ব্যাপারটা মানুষের বিবেচনা ও সম্পূর্ণ মনের অধিকারপ্রসূত। এটা যার যার ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনা ও মনের বিষয়, যেটা একান্তভাবে নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের দয়া মায়া ত্যাগ তিতিক্ষা ধৈর্য সংযমতা পৌরুষ আস্তিকতা ইত্যাদি গুণগত বিচারের উপর। অতএব বাহ্যদৃষ্টিতে কোনও মানুষের কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে সৎ বা অসৎ বলাটা কারও নিজের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। বলার অধিকার নেই। অথচ আমরা সকলে এটা বলে থাকি।

একটু থামলেন। একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন,

– আসলে বেটা ভগবানের বিচারটাই আলাদা। তোর আমার চিন্তা ভাবনা বিচারের সঙ্গে তাঁর বিচারের কোনও মিল বা হদিশ খুঁজে পাবি না। সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার জন্য কিছু কিছু বিষয়কর্মকে সৎ বা অসৎ বলে একটা সংজ্ঞা তৈরি করেছে মানুষ। সৎ অসৎ- এর প্রকৃত কোনও সংজ্ঞা নেই। এর বিচার মানুষ করতে পারে না। কালের গতি তাকে যেভাবে নিয়ে যাচ্ছে সে সেইভাবেই চলছে। বিচার ভগবানের হাতে।

আমার প্রশ্নের উত্তরে এইটুকুই বললেন সাধুবাবা। আর কোনও কথা না বলে চুপ করে রইলেন। মিনিটপাঁচেক কেটে গেল। জিজ্ঞাসা করলাম,

– বাবা, মানুষের জীবনে মনে পূর্ণতা আসে কিসে?

একটুও চিন্তা না করে বললেন,

– সংসার বা সন্ন্যাসজীবনে ত্যাগ ছাড়া মানুষ কখনও পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় না। মনের পূর্ণতা ত্যাগেই, সর্ববিষয়ে, সর্বক্ষেত্রে। যার ত্যাগ যত, সে তত বেশি পূর্ণ মনে।

প্রশ্ন করতে যাব, দুজন তীর্থযাত্রী এসে দাঁড়ালেন সামনে। দেখে মনে হল স্বামী স্ত্রী। আধাবয়সী। চেহারায় বাঙালি। মহিলাটি সাধুবাবার সামনে একটা টাকা রেখে প্রণাম করলেন। ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর চলে গেলেন দুজনে। শুরু করলাম কথা,

– বাবা, মানুষের সুখ বা দুঃখভোগ যদি পূর্বজন্মের কর্মফল-ভোগ হয় তাহলে যেকোনও অবস্থাতে ভগবানকে ডেকে লাভ কি?

কথাটা শুনে হেসে ফেললেন। হাসতে হাসতে বললেন,

– বেটা, ভগবানে মন দেয়া, তাঁকে ডাকা, তাঁর শরণাগত হওয়া তোর বা আমার, কোনও মানুষের সাধ্য কি আছে রে! তাঁর যদি ইচ্ছা না হয় তাঁকে ডাকার মনটাই হবে না। এমন পাঁকে ফেলে রাখবে, তাঁর কথা মনেই আসবে না। ‘নিমক’ ছাড়া রান্না করা ‘সবজি’র মতো জীবন। তাঁর দয়া হলে মানুষ তাঁকে সুখেও ডাকে দুঃখেও ডাকে। ভগবানকে স্মরণ করার ক্ষমতাটুকুও তোর আওতায় নেই। আর সেটা যখন নেই তখন লাভ লোকসানের হিসাবটা করবি কেমন করে? সংসারে সুখ বা দুঃখভোগটা স্থির হয়ে আছে নিয়মে। তাঁকে ডাকলে দরিদ্রের ধন হবে না। না ডাকলে ধনবান ভিখারিও হবে না।

Advertisements

Check Also

Forest

ভরদুপুরে প্রেতাত্মাকে অবিকল মানুষের বেশে দেখা – শিবশংকর ভারতী

এবার সারা দেহটা জলে মিলিয়ে গেল সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে রোদের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটে গেল যেন নিমেষে। সর্বাঙ্গ আমার ভারী হয়ে গেল।

One comment

  1. Aniruddha Mukhopadhyay

    শ্রী শিব শঙ্কর ভারতী মহাশয়ের সংগে দেখা করতে চাই
    Mobile 9830812961/8130724713

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *