২টি নদীর মুখ ঘুরিয়ে দিল মানুষ, শুকিয়ে গেল সাগরের মত বিশাল দিঘি
এটি খাতায় কলমে লেক বা দিঘি। কিন্তু তা এতটাই বড় যে তাকে সাগর বলা হয়। পৃথিবীর স্থলভাগের মাঝে এই বিশাল জলভাগ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে ২ নদীর কারণে।
দেখে মনে হবে মরুভূমি। চারধারে ধুধু করছে শুকনো মাটি। তবে কিছুটা নিচে। সেখান থেকে নির্গত হচ্ছে একটা দুর্গন্ধ। কোথাও কোথাও সারি দিয়ে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে মরচে পড়া নৌকা থেকে স্টিমার।
কোথাও এতটুকু জল নেই। কিন্তু যে জায়গার এমন অবস্থা সেটাই ছিল পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম লেক। একটা সময় জলের সীমা দেখা যেত না। এতটাই বড় জলভাগ ছিল যে তাকে লেক না বলে সকলে সি বা সাগর বলতেন। এর নামও তাই, আরল সি। অর্থাৎ আরল সাগর।
এখানে একসময় প্রচুর নৌকা, স্টিমার ভেসে বেড়াত। মাছ ধরার নৌকাও ছিল অগুন্তি। প্রাচীনকাল নয়, ১৯৬০-এও এই আরল সি ছিল অন্যতম জলভাগ। যা মাত্র এই কটা বছরের মধ্যে একটা মরুভূমির চেহারা নিয়েছে। জল গেছে শুকিয়ে।
প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মিশেছে এই শুষ্কতার কারণে। যত জল শূন্য হয়েছে ততই পচে গেছে প্রচুর জলজ প্রাণ, উদ্ভিদ, ছোট গাছ, শৈবাল। যেগুলি পচে জলের তলদেশের মাটিতে মিশেছে। এবার সেই জলের তলদেশের মাটি রোদে শুকিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এই আরল সাগরের জলের উৎস ছিল ২টি নদী আমু দরিয়া এবং সির দরিয়া। ১৯৯০-এর দশকে উজবেকিস্তানে তুলো চাষের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রচুর জলের দরকার ছিল। তাই রাশিয়া এই ২টি নদীর জলের মুখ ঘুরিয়ে দেয়।
ফলে এই ২ অন্যতম বৃহৎ নদী এবং আরলের জলের উৎস আরল সাগরের দিক থেকে মুখ ঘোরায়। এইসময় থেকে ক্রমশ শুকিয়ে যেতে থাকে উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের সীমান্তে অবস্থিত আরল সি। যেটি এখন কার্যত কাউকে দেখালে তিনি বিশ্বাস করবেননা যে এখানে কিছু বছর আগেও অনন্ত জলরাশি বিরাজ করত।
যদিও আরল সাগর শেষ হয়েও শেষ হয়নি। তার উত্তর ভাগ নতুন করে জলে ভরতে শুরু করেছে। তাই কোথাও একটা ক্ষীণ হলেও আরল সাগরকে পুরনো রূপে দেখতে পাওয়ার আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।









