Wednesday , October 17 2018

নীল সবুজের দেশে!

Debrigarh Wildlife Sanctuary

এই ভ্রমণের যাত্রা শুরু করতে হবে সম্বলপুর থেকে। আগেই ব্যবস্থা করতে হবে মোটরের। বাস যায় না। সাত সকালেই এসে হাজির হবে মোটর। ভ্রমণ পর্বে রাখুন একটা দিন, একটা অভয়ারণ্য – ‘Debrigarh Wildlife Sanctuary’ বা দেবরিগড় অভয়ারণ্য।

মোটর শহর সম্বলপুর ছেড়ে ধরবে শহরতলির রাস্তা। ছুটবে হীরাকুঁদ বাঁধের পশ্চিম প্রান্তের মসৃণ রাস্তা ধরে। দিগন্ত বিস্মৃত হীরাকুঁদ জলাধারকে পাশে রেখে পশ্চিম পাড় ধরে একটানা চলে মোটর এসে থামবে দোদ্রকুসুম (Dhodrokusum). এখান থেকেই শুরু হয়েছে দেবরিগড় সংরক্ষিত গভীর ঘন বনাঞ্চল। এক পাশ বরাবর পাহাড়ের সারি, এক পাশে সীমাহীন জলরাশি, এরই মধ্যে ৩৪৬.৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই অভয়ারণ্য ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে। সম্বলপুর মাত্র ৪০ কিলোমিটার। নিজেদের গরজে যেতে হবে জিপ কিংবা মোটরে।

অরণ্যের প্রবেশ মুখেই লেখা, Forest Range Officer, Kamgaon at Dhodrokusum. এখানে খাতায় নাম লিখতে হবে, দেওয়া হবে বন ভ্রমণের ছাড়পত্র। অরণ্যে ভারতীয়দের মাথাপিছু প্রবেশকর সামান্য। বিদেশিদের ক্ষেত্রে কিছু বেশি। জিপ বা মোটরের জন্য খরচা আলাদা। ক্যামেরা নিলে দিতে হবে আরও কিছু। এই হল অরণ্যে প্রবেশের খরচা। এসব কাজ সারতে সময় লাগে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিট।

এবার মোটর ছাড়পত্র পেয়ে ধীরে ধীরে ঢুকতে থাকবে অরণ্যে। ক্রমশ বাড়তে থাকবে গভীরতা। নানান গাছের ছড়াছড়ি। পর্ণমোচী, মহুয়া শাল সেগুন অগুনতি। বনের গভীরে পথ চলে গিয়েছে ঢেউ খেলে খেলে। গা ছমছমে গভীরতা। এখনও তেমন প্রচার পায়নি বলে যাত্রী সংখ্যা বেশ কম।

মোটরে বসে চোখ রাখুন বাইরে। মাঝে মাঝেই চোখে পড়বে হরিণের পাল। গাড়ি থামিয়ে ফটো তুলবেন, সে সুযোগ দেবে না। মুহূর্তে উধাও হয়ে যাবে আরও গভীর অরণ্যে।

এ বনে গাইডের প্রয়োজন হয়না। সন্ধ্যার পর থাকা নিষেধ। বাদরামা অভয়ারণ্যে রাতেই দেখা মেলে জীবজন্তুর। দেবরিগড় অভয়ারণ্যে ব্যাপারটা পুরো উলটো। যা কিছু তা দিন থাকতে।

বনের গভীরে প্রায় ৯ কিলোমিটার ঢোকার পর নজরে আসবে নীলগাই আর অসংখ্য হরিণ। মোটরের শব্দে এরাও সরে পড়বে বনের আরও গভীরে। এরপর আরও এগিয়ে চলুন ২৫ কিলোমিটার। এবার দেখা মিলবে নীলগাই বাইসন সম্বর হনুমান ভাল্লুক হায়েনা প্রভৃতির। লেপার্ড আর বাঘের দেখা প্রায় মিলবেই না। এরা থাকে বনের আরও অনেক অ-নে-ক গভীরে। ওড়িশা সরকারের বন বিভাগের মতে এই অভয়ারণ্যে উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায় বাঘ ও  লেপার্ড। নানান ধরনের পাখির সঙ্গে আছে পাইথন গোখরো ঘড়িয়ালের মত সরীসৃপ। নিকটবর্তী হীরাকুঁদ লেকের ধার ঘেঁষে চরে বেড়ায় অসংখ্য কুমির।

পাহাড় বন আর পাশের দিগন্ত বিস্তৃত সুশীল লেকের শোভা অসম্ভব আকর্ষণীয় করে তুলেছে দেবারিগড় অভয়ারণ্যকে। একই সঙ্গে পর্যটক মনকে শিহরিত করে তুলবে গাঢ় সবুজ বনের নির্জনতা।

(ছবি – শিবশংকর ভারতী)



Advertisements

About Sibsankar Bharati

স্বাধীন পেশায় লেখক জ্যোতিষী। ১৯৫১ সালে কোলকাতায় জন্ম। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। একুশ বছর বয়েস থেকে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকায় স্থান পেয়েছে জ্যোতিষের প্রশ্নোত্তর বিভাগ, ছোট গল্প, রম্যরচনা, প্রবন্ধ, ভিন্নস্বাদের ফিচার। আনন্দবাজার পত্রিকা, সানন্দা, আনন্দলোক, বর্তমান, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, সকালবেলা সাপ্তাহিকী, নবকল্লোল, শুকতারা, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার নিবেদন 'আমার সময়' সহ অসংখ্য পত্রিকায় স্থান পেয়েছে অজস্র ভ্রমণকাহিনি, গবেষণাধর্মী মনোজ্ঞ রচনা।

Check Also

Astro Tips

দেহকে রোগপীড়া মুক্ত করার ঘরোয়া টোটকা – শিবশংকর ভারতী

এখানে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করছি তা আমার মন গড়া কোনও কথা নয়। যে কাজগুলির কথা বলছি তাতে বড় ধরণের আর্থিক খরচের মধ্যে পড়তে হবে বলে মনে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.