SciTech

পৃথিবীর ল্যাবেই বিগ ব্যাং, তৈরি হল মহাবিশ্বের আদিম পদার্থ

পৃথিবীর পরীক্ষাগারে তৈরি হল বিগ ব্যাং। মিলল মহাবিশ্বের জন্ম মুহুর্তের আদিম পদার্থের বিস্ময়কর ঝলক।

মহাবিশ্বের জন্মের ঠিক পরের মুহুর্তে কেমন ছিল চারপাশ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এবার পৃথিবীর ল্যাবরেটরিতেই তৈরি করলেন একধরনের ক্ষুদ্র বিগ ব্যাং। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, এই পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ছোট পারমাণবিক নিউক্লিয়াস।

সার্ন-এর অ্যালিস পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা অক্সিজেন-১৬ এবং নিয়ন-২০-র নিউক্লিয়াসকে প্রায় আলোর গতিতে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করান। সেই ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয় অত্যন্ত উত্তপ্ত কোয়ার্ক-গ্লুওন প্লাজমা। বিজ্ঞানীদের ধারনা, বিগ ব্যাং-এর পর মহাবিশ্বের প্রথম কয়েক মুহুর্তে ঠিক এই ধরনের পদার্থই গোটা মহাবিশ্ব জুড়ে ছিল।

কোয়ার্ক-গ্লুওন প্লাজমা এমন এক অবস্থা, যেখানে প্রোটন এবং নিউট্রনের ভিতরে থাকা কোয়ার্ক ও গ্লুওন আর শক্তভাবে আবদ্ধ থাকে না। প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও শক্তির কারণে তারা প্রায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে।

এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারনা ছিল, এই অবস্থা তৈরি করতে সীসার মত তুলনামূলক বড় ও ভারী নিউক্লিয়াস প্রয়োজন। কিন্তু নতুন পরীক্ষা দেখাল, অক্সিজেন ও নিয়নের মত অনেক ছোট নিউক্লিয়াস দিয়েও ক্ষণিকের জন্য সেই আদিম পদার্থ তৈরি সম্ভব।

তবে এখানেই শেষ নয়। সংঘর্ষের পরে তৈরি হওয়া হাজার হাজার কণা কোন দিকে এবং কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, সেই প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মূল নিউক্লিয়াসের আকৃতি সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছেন। অক্সিজেন নিউক্লিয়াস তুলনামূলক গোল হলেও নিয়ন নিউক্লিয়াস কিছু ক্ষেত্রে লম্বাটে আচরণ করতে পারে।

অর্থাৎ একটি আণুবীক্ষণিক সংঘর্ষ শুধু বিগ ব্যাং-এর পরের মহাবিশ্বের ঝলকই দেখাচ্ছে না, পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের ভিতরের অদৃশ্য আকৃতিও যেন সামনে এনে দিচ্ছে।

Show Full Article