রুদ্ধশ্বাস জয়, সঞ্জুর ব্যাটে ইডেনে বসন্ত, রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত
কানায় কানায় ভরা রবিবাসরীয় ইডেনে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। কার্যত দলকে একাই জয় এনে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। গড়লেন রেকর্ডও।
ডু অর ডাই ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয় পেল ভারত। রবিবার ইডেনে বসন্ত এল সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ভর করে। কানায় কানায় ভর্তি ইডেন ফেটে পড়ল আনন্দে। স্বপ্নের জয়ে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত।
এদিন যে জিতবে সেই সেমিফাইনালে। হারলে বিদায়। এই শর্তে ইডেনে খেলতে নামে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস জিতে প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিং করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
ব্যাট করতে নেমে উইকেট রক্ষা করে রানের চাকা ঘোরানোর পথে হাঁটেন ক্যারিবিয়ানরা। ১৫ ওভারে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেট হারিয়ে সবে ১২৫ রানের গণ্ডি পার করেছে তখন অনেক ভারতীয়ই মনে করতে শুরু করেছিলেন ভারত ম্যাচটা সহজেই জিতবে। কারণ বড় রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বারা আর সম্ভব হবেনা।
কিন্তু সেখান থেকেই রোভম্যান পাওয়েল এবং জেসন হোল্ডার খেলার মোড় ঘোরাতে শুরু করেন। অর্শদীপের একটা বিশাল রানের ওভার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলায় ফিরিয়ে দেয়। ইনিংস শেষে ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৫ রানের বড় ইনিংস গড়ে দেয়।
ভারতের টি২০ বিশ্বকাপের রেকর্ড বলছিল এত বড় রান তাড়া করে কখনও এই প্রতিযোগিতায় জয় পায়নি তারা। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি২০ বিশ্বকাপে ইডেনের মাঠে কখনও হারেনি।
১৯৬ রান তাড়া করতে নেমে এদিনও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না অভিষেক শর্মা। কিন্তু উল্টোদিকে সঞ্জু স্যামসনের শুরু থেকে ব্যাটিং বলে দিচ্ছিল দারুণ ছন্দে রয়েছেন তিনি।
প্রথম ২টি ওভারে এঁটে উঠতে না পারলেও সঞ্জুর হাত ধরে তৃতীয় ওভারেই বড় রান পায় ভারত। কিন্তু শেষ বলে অভিষেকের উইকেট হারায়। এদিন অভিষেক ২টি ক্যাচ ফেলেন। ব্যাটিংয়েও সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
সঞ্জুর সঙ্গে এরপর জুটি বাঁধেন ঈশান কিষাণ। কিন্তু বেশিক্ষণ পিচে থাকতে পারেনি ঈশানও। সূর্যকুমার নেমেও ছন্দের অভাবে ভুগছিলেন। ১৮ রান করে সূর্যও প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
একদিক থেকে যখন উইকেট পড়ছে তখনও সঞ্জু স্যামসন কিন্তু রানের গতি ধরে রেখেছিলেন। তিলক অবশ্য নামার পর সঞ্জু ও তিলক মিলে ভারতকে একটা জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। প্রয়োজনীয় রান রেটটা ধরে রাখেন।
তিলক ফেরার পর হার্দিক পাণ্ডিয়া নামেন। একইভাবে ইডেনের পিচে হার্দিকও ছন্দ খুঁজছিলেন। তাঁর একটা ক্যাচ ফস্কালেও দ্বিতীয়বার ক্যাচ ধরায় ভুল করেননি ক্যারিবিয়ানরা।
সঞ্জু স্যামসন কিন্তু একটা দিক ধরে রেখে ভারতের জয়ের আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শেষে নেমে অবশ্য কম রান হলেও অতিপ্রয়োজনীয় ২টি ৪ হাঁকান শিবম দুবে।
শেষ ওভারে ৬ বলে ৭ রান দরকার। এই অবস্থায় সঞ্জুর হাতে ছিল ব্যাট। প্রথম বলেই সঞ্জু ছক্কা হাঁকান। ফেটে পড়ে ইডেন। সব চিন্তা একটা ছক্কায় দূর করে দেন সঞ্জু। পরের বলে ৪ মেরে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেন।
এর আগে টি২০ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বেশি রান ছিল ৮২। যা বিরাটের ব্যাট থেকে ২ বার এসেছিল। এদিন সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েন সঞ্জু। রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসাবে তাঁর ৯৭ এখন নতুন রেকর্ড।
টি২০ বিশ্বকাপে এত বড় রান তাড়া করে কখনও জেতেনি ভারত। এই প্রথম এত বড় রান তাড়া করে জিতল। এটাও রেকর্ড। এদিন যখনই মনে হয়েছে ভারত ব্যাকফুটে, তখনই সঞ্জু ত্রাতার মত রান করে জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন।
অবশেষে জয়টাও তাঁর ব্যাট থেকেই এল। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচও হলেন সঞ্জু স্যামসন। আগামী ৫ মার্চ মুম্বইয়ের মাঠে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।













