Sports

দাপট দেখাল মোহনবাগান, ভাল খেলল ইস্টবেঙ্গল

রবিবার ছিল মরসুমের প্রথম ডার্বি। দীর্ঘদিন পর ডার্বি। আর মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল মানেই বাঙালি যেন হঠাৎই কেমন চার্জড হয়ে পড়ে। ঘটি বনাম বাঙাল, ইলিশ বনাম চিংড়ি। এ লড়াই আজকের নয়। এদিনও তাই বেলা থেকেই লরি, গাড়ি, টেম্পোতে প্রিয় দলের পতাকা লাগিয়ে সমর্থকেরা উল্লাসের সঙ্গে হাজির হচ্ছিলেন যুবভারতী স্টেডিয়ামে। গোটা শহরের রাজপথ কেমন যেন সবুজ-মেরুন আর লাল-হলুদে ভরে গিয়েছিল।

উৎসাহ ছিল চরমে। গোটা স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এদিন খেলা শুরুর পর থেকে কিন্তু মাঠের দখল রাখছিল মোহনবাগানই। বেশ গোছানো আক্রমণ। পরপর সুযোগ। শুধু যা গোলটাই হচ্ছিলনা। প্রথমার্ধ জুড়েই কিন্তু সবুজ মেরুনের দাপট বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। ইস্টবেঙ্গলও ভাল খেলছিল। কিন্তু সুযোগ তৈরিতে বা প্রতি-আক্রমণে কোথাও যেন একটু পিছিয়ে যাচ্ছিল।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে কিন্তু ইস্টবেঙ্গল তাদের খেলার ধরন বদলায়। ২ দলেরই স্প্যানিশ কোচ। ২ কোচকেই এদিন যথেষ্ট তৎপর দেখিয়েছে। তাঁরাও ডার্বির আঁচ থেকে মুক্তি পাননি। বুঝতে পেরেছেন এই খেলা শুধুই খেলা নয়, বাঙালির এক টানটান উৎসব, উত্তেজনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের পর আক্রমণ হানতে থাকে। তবে শেষের দিকে গিয়ে ফের খেলা নিজেদের আয়ত্তে নেয় মোহন শিবির। শেষ প্রায় ১৫ মিনিট কার্যত মোহনবাগানকেই আক্রমণ‌ে যেতে দেখা গেছে।

মোহনবাগান এদিন শেষের দিকে অধিকাংশ আক্রমণই করেছে ফ্ল্যাঙ্ক থেকে। ভাল কিছু মাইনাস দেখা গেছে মাঠে। ভাল থ্রু। সবই হয়েছে। খালি জালে বল জড়ায়নি। মোহনবাগান সুযোগ বেশি মিস করেছে, ইস্টবেঙ্গল তুলনায় কম। কিন্তু ২ দলের একটা সমস্যা এদিন দর্শকদের কাছেও পরিস্কার। ২ দলই ফিনিশারের অভাবে ভুগছে। তেমন নির্ভরযোগ্য স্কোরার স্ট্রাইকার নেই। যা আগামী দিনে মনে রাখতে হবে ২ দলকেই। এদিন ছিল কলকাতা লিগের খেলা। সামনে আইলিগ আসছে। সেখানে ২ বার মুখোমুখি হবে ২ দল। সেক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো মিটিয়ে নিতে পারলে আরও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে পারবেন দর্শকরা।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.