State

চতুর্থ দফার ভোটে ঝরল রক্ত, গেল প্রাণ

চতুর্থ দফার ভোটে শীতলকুচি এলাকাতেই ৫টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এঁদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হল বাহিনীর গুলিতে। একজন সংঘর্ষের বলি।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বিগত ৩ দফাতেও রক্ত ঝরেছে। তবে এতগুলো প্রাণ যায়নি। যা চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ শুরুর ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে চলে গেলে। কোচবিহারের শীতলকুচি কেন্দ্রে পাঠানটুলি এলাকায় ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ আনন্দ বর্মণ। পরিবারের অন্যরাও ছিলেন তাঁর সঙ্গে। সেই সময় সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

অভিযোগ সেই সংঘর্ষে গুলিও চলে। যার মধ্যে একটি গুলি এসে লাগে আনন্দ বর্মণের দেহে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

সকালে ভোট শুরুর পরই এই ঘটনা গোটা রাজ্যের মানুষর মন ভারাক্রান্ত করে। বেলা বাড়লে ওই শীতলকুচিরই জোরপাটকি এলাকায় ১২৬ নম্বর বুথের সামনে গুলি চলার ঘটনা ঘটে। এবার গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ। নির্বাচন কমিশনই তা নিশ্চিত করেছে।

এখানে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন বলে খবর। তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় মাথাভাঙার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও তাঁদের বাঁচানো যায়নি। এঁরা সকলেই তৃণমূল সমর্থক বলে খবর। মাথাভাঙা হাসপাতালে কান্নার রোল ওঠে। মৃতদের পরিজনেরা সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।


এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। সিআইএসএফ কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতেই তাদের বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে হয়।

এখানে অবশ্য প্রশ্ন উঠছে যে সিআইএসএফ কি প্রথমে শূন্যে গুলি চালিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছে? তাছাড়া যদি গুলি করতেই হয় তাহলে কোমর বা হাঁটুর নিচে গুলি করার কথা। যাতে মৃত্যু না হয়, আহত হয়। কিন্তু এখানে ৪ জনের মৃত্যু হল গুলিতে।

গোটা ঘটনায় তৃণমূলের তরফে প্ররোচনা ছিল বলে দাবি করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুরো বিষয়টিই তদন্ত সাপেক্ষ।

তবে মৃত্যু কোনও ভোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়। চতুর্থ দফায় সেই মৃত্যুই দেখতে হল ফের। এভাবে ভোটের দিন মানেই আতঙ্কের পরিবেশ গণতন্ত্রের উৎসবকে আর উৎসব রাখল না।

Show Full Article
Back to top button