তারার ধ্বংসাবশেষ থেকেই জন্ম নেবে নতুন পৃথিবী, মহাকাশে কসমিক রিসাইক্লিং

জীবন সায়াহ্নে পৌঁছনো তারার ছড়িয়ে পড়া উপাদানই একদিন তৈরি করতে পারে নতুন তারা ও গ্রহ, হেলিক্স নীহারিকায় ধরা পড়ল মহাজাগতিক পুনর্ব্যবহারের দৃশ্য।

হাবলের চোখে হেলিক্স নীহারিকা, ছবি – সৌজন্যে – নাসা ডট গভ

একটি তারা ধীরে ধীরে জীবন সায়াহ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার শেষ মানেই সবকিছুর শেষ নয়। বরং সেই ধ্বংসাবশেষই একদিন তৈরি করতে পারে নতুন তারা, নতুন গ্রহ, এমনকি পৃথিবীর মত কোনও নতুন জগত।

হেলিক্স নীহারিকা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্যের সম্মুখীন হয়েছেন। গবেষকেরা দেখেছেন, প্রায় অন্তিম অবস্থায় পৌঁছনো একটি তারার ছুঁড়ে দেওয়া গ্যাস ও ধুলো ধীরে ধীরে ভেঙে নক্ষত্রমণ্ডলীয় মহাশূন্যের উপাদানের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। অর্থাৎ পুরনো নক্ষত্রের উপাদান আবার ফিরে যাচ্ছে মহাকাশের বিশাল ভান্ডারে।

নতুন মোথরা টেলিস্কোপের সাহায্যে গবেষকেরা হেলিক্স নীহারিকায় ২২টি সম্পূর্ণ বা আংশিক বো শক সনাক্ত করেছেন। এই শক কাঠামোগুলি দেখাচ্ছে, কীভাবে তারার নির্গত উপাদান মহাকাশের চারপাশের পদার্থের সঙ্গে সংঘর্ষে মিশে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে দেখছেন একধরনের কসমিক রিসাইক্লিং বা মহাজাগতিক পুনর্ব্যবহার হিসেবে। কারণ এই গ্যাস ও ধুলো ভবিষ্যতে নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির কাঁচামাল হতে পারে।

আর সবচেয়ে ভাবনার বিষয়, সূর্যেরও একদিন একই পরিণতি হবে। তার উপাদানও ছড়িয়ে পড়বে মহাকাশে। হয়ত বহু কোটি বছর পরে সেই উপাদান দিয়েই তৈরি হবে কোনও নতুন পৃথিবী।

এই কারণেই কোনও তারার শেষ হয়ে যাওয়া মহাবিশ্বের হিসাবে নিছক ধ্বংস নয়, নতুন সৃষ্টিরও শুরু। তাহলে সমগ্র বস্তু যে পরমাণু দিয়ে তৈরি, তার কিছু কি কোনও বহু আগে শেষ হয়ে যাওয়া তারার উত্তরাধিকার? বিজ্ঞান বলছে, সেই সম্ভাবনা একেবারেই বাস্তব।