এখন থেকে প্রায় ৪৭ হাজার বছর আগে পৃথিবীর কোনও এক প্রান্তে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল নিয়ানডার্থালদের। সেই সাক্ষাৎ শুধু পাশাপাশি বসবাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২ মানবগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃপ্রজননও হয়েছিল। নিয়ানডার্থালরা আজ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত। কিন্তু তাদের শরীরের একটি ক্ষুদ্র অংশ যেন এখনও বর্তমান মানুষের মধ্যেই বেঁচে রয়েছে।
সেই প্রাচীন সম্পর্কের চিহ্ন আজও মানুষের ডিএনএ-তে রয়ে গেছে। নতুন গবেষণা বলছে, নিয়ানডার্থালদের কাছ থেকে পাওয়া গ্রোথ হরমোন রিসেপ্টর জিনের একটি বিশেষ রূপভেদ কিছু মানুষের শরীরে সামান্য বেশি পেশির ভরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
গবেষকেরা নিয়ানডার্থাল জিনোমে জিএইচআর-এর এমন একটি সংস্করণ সনাক্ত করেছেন, যেখানে ২টি বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিবর্তন রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা যায়, এই নিয়ানডার্থাল প্রাপ্ত গ্রাহক থাকা কোষ বৃদ্ধি হরমোনের প্রভাবে আধুনিক মানুষের সাধারণ গ্রাহক যুক্ত কোষের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি দেখিয়েছে।
এরপর ১১ লক্ষেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জিনগত ও স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, নিয়ানডার্থাল প্রাপ্ত সংস্করণের একটি কপি বহনকারীদের শরীরে গড়ে প্রায় ২৭০ গ্রাম বেশি পেশি ভর থাকতে পারে। ২টি কপি থাকলে প্রভাব আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বেশি উচ্চতা এবং চোয়াল ও দাঁতের গঠনেও পার্থক্যের ইঙ্গিত মিলেছে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল এর ভৌগোলিক বিস্তার। ইউরোপীয় বংশপরিচয়ের মানুষের মধ্যে সংস্করণটির হার ১.১ শতাংশ, কিন্তু দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কিছু মানবগোষ্ঠীতে এটি ২৪–২৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
তবে জিনটি থাকলেই কেউ অত্যন্ত শক্তিশালী বা পেশিবহুল হয়ে যাবেন, এমন নয়। মানুষের পেশির গঠন নির্ভর করে বহু জিন, হরমোন, বয়স, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার উপর।
গবেষণাটি দেখাচ্ছে, ৪০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নিয়ানডার্থালদের জিনগত উত্তরাধিকার এখনও আধুনিক মানুষের শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্যে সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলতে পারে।