Health

চিকিৎসকের পরামর্শে বাজি পোড়ানোর সময় কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

আলোর উৎসব দীপাবলি। বৈদ্যুতিন আলো থেকে প্রদীপ বা মোমবাতির আলো, সব মিলিয়ে আলোয় ভরে ওঠে শহর থেকে গ্রাম। বাড়ির চৌকাঠ থেকে দালান। কালীপুজো হোক বা দিওয়ালি, আলো-কে সামনে রেখেই উৎসবের আনন্দ, হৈচৈ। আর এই উৎসবের দিনগুলোকে আরও আলোকময় করে তোলে আতসবাজির রোশনাই। সন্ধে নামতেই তাই পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে, বাড়ির ছাদে বা দালানে ছোট থেকে বড় সকলেই মেতে ওঠেন আতসবাজির আনন্দে। আতসবাজি সুন্দর। কিন্তু তা দিনের শেষে আগুন। তাই শরীর বাঁচিয়ে আতসবাজিতে মেতে ওঠাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেইসঙ্গে বাজির ধোঁয়া পরিবেশের দূষণ ভারসাম্যকেও নষ্ট করে। অনেকের শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়। তার মানে এই নয় যে বাজি পোড়াবেন না। তবে কিছু সতর্কতা জরুরি। সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের চিকিৎসক অনিল সাহার সঙ্গে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আতসবাজি ও শব্দবাজি এই দু’ধরণের বাজিতেই গন্ধক ও বিভিন্ন ধরনের সোডা থাকে যা পুড়লে বাতাসে অক্সিজেনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। শ্বাসপ্রশ্বাস এর সমস্যা হয়। বিশেষত বাচ্চাদের ও বয়স্কদের জন্য এই ধোঁয়া খুবই খারাপ। এমন অনেকে আছেন যাঁরা ফুসফুসের রোগে ভুগছেন। তাঁদের জন্য এই ধরণের ধোঁয়া বা গ্যাস কাশির প্রবণতা বাড়ায়। সাথে সাথে শ্বাস নেওয়ার কষ্ট সাময়িক ভাবে হয়ে থাকে। তাই, একদম শিশুদের সামলে রাখুন। যাঁদের গুরুতর শ্বাসের সমস্যা আছে তাঁরা মাস্ক পরুন।

শব্দবাজি মানেই একটা বিকট আওয়াজ। যেকোনো মানুষের জন্য এই বিকট শব্দ কাম্য নয়। ঘরে যদি শিশু থাকে তবে তারা ভয় পেতে পারে। চমকে যেতে পারে। আতঙ্ক থেকে জ্বরও আসতে পারে। যাঁরা হাসপাতাল থেকে সদ্য এসেছেন তাঁদের জন্যও এরকম শব্দ হৃদযন্ত্র ও কানের পক্ষে সুবিধার একেবারেই নয়। ৫০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার শব্দ কানের স্নায়ু নষ্ট করে দিতে পারে, এমনকি বধিরতাও ডেকে আনতে পারে। তাই, আশেপাশে শব্দবাজির পরিমাণ বাড়লে ঘরের দরজা জানলা আটকে রাখুন।

কচিকাঁচা থেকে নতুন প্রজন্ম, বাজি নিয়ে মাতামাতি খুব অস্বাভাবিক নয়। আতসবাজি মানেই কিন্তু আগুনের ফুল্কি। অনেকসময় আতসবাজি সময়ের আগেই ফেটে যায়। কখনও অসতর্কতার কারণে বা বাজি অস্বাভাবিক আচরণ করলে আগুনের ফুল্কিতে শরীরের কোন অংশ জ্বলে যেতে পারে। এমন দুর্ঘটনা ঘটলে সেক্ষেত্রে তখনই ঠান্ডা জল বা বরফ ওই ক্ষতস্থানে দিতে হবে। অন্য কোনও ক্রিম বা কিছু দেওয়া তখন উচিত নয়। তাই বাজি পোড়ানোর সময় হাতের কাছে এক বালতি জল অবশ্যই রাখবেন। আগুনে বড় ধরণের ক্ষতি হলে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

ঘরোয়া সাবধানতা হিসাবে ঠান্ডা জল বা বরফ এর সুবন্দোবস্ত রাখুন। বাজি ফাটানোর সময় সুতির জামা পড়ুন। ফাঁকা জায়গা দেখে বা ছাদে ফাঁকা ও নির্দিষ্ট জায়গায় কেবল বাজির আনন্দ নিন। ঘরে ছোট বাচ্চা থাকলে তার উপর কড়া নজর রাখুন। সে কোনওভাবে আতঙ্কিত হচ্ছে কিনা দেখুন। বাজি ফাটানোর সময় নেশা থেকে দূরে থাকুন। অতিরিক্ত উত্তেজনা কিন্তু সমস্যা বাড়াতে পারে, তাই সামঞ্জস্য রেখে আনন্দ করুন।

ফলে বাজি পোড়ানোর সময় সতর্ক থাকা জরুরি। আনন্দ যেন মুহুর্তে নিরানন্দের কারণ না হয়ে ওঠে, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়া দরকার। তাই সাবধান ও সচেতন নিজেদেরকেই হতে হবে। এই আনন্দের উৎসবে সঙ্গী যেন হাসপাতাল না হয়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button