Sports

হনুমা-অশ্বিনের ক্রিজ কামড়ে লড়াই, ড্রয়ে শেষ রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ

এই ম্যাচ যে ড্র হতে পারে তা অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাও ভাবতে পারেননি। কিন্তু অশ্বিন ও হনুমা বিহারীর ক্রিজ কামড়ে লড়াই অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিল।

সিডনি : ইতিহাস বলছে চতুর্থ ইনিংসে ভারতীয় দলের ব্যাটিং সবচেয়ে বেশি রান তুলেছিল ১৯৮০ সালে। তারপর এই ২০২১ সালে এসে সেই রেকর্ড ভেঙে চতুর্থ ইনিংসে আরও বেশি রান করে ম্যাচকে ড্রয়ে নিয়ে গেলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানেরা।

ঋষভ পন্থ এদিন যে গতিতে রান তুলেছেন, ঠিক তার বিপরীত গতিতে ক্রিজে ঠায় ডিফেন্স করে গেছেন হনুমা বিহারী ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

জেতা ম্যাচ হাত থেকে এভাবে বার হতে দেখে মরিয়া অজি দল প্রবল আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে রাখে। কিন্তু তাতেও মনঃসংযোগ টলানো যায়নি অশ্বিন-হনুমার।

পঞ্চম দিনের প্রায় শেষে পৌঁছে একটা ড্রয়ের লক্ষ্যে যে এমন রুদ্ধশ্বাস লড়াই হতে পারে তা দর্শকরা কল্পনাও হয়তো করতে পারেননি।


ভারত যখন তার পঞ্চম উইকেট এদিন হারায় তখন স্কোর ছিল ২৭২। টার্গেট ছিল ৪০৭। চতুর্থ ইনিংসে এই অবস্থা থেকে জয় বার করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেই ১৩৫ রানও উঠে যাবে, এমন একটা সময় মনে করতে শুরু করেছিলেন ভারতীয় সমর্থকেরা।

যদিও ওই রান তোলার পিছনে ছুটতে গিয়ে ম্যাচ হারার ঝুঁকি নেয়নি ভারত। বরং পরিস্থিতি বুঝে হনুমা ও অশ্বিন স্থির করেন তাঁর ক্রিজ কামড়ে চা পানের বিরতির পরের ৪০টি ওভার কাটিয়ে দেবেন।

এদিন কিন্তু চা পানের বিরতির পর জুটি ভাঙার সব রকম চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে স্পিন অশ্বিন আর পেস হনুমা সামলে নেওয়ার পথে হাঁটেন ২ জন।

অনেক ক্ষেত্রেই আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং থাকায় ১ বা ২ রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু কেউ ছোটেননি। লক্ষ্য ছিল স্থির।

পেস হনুমা আর স্পিন অশ্বিন সামলে দেবেন। রান নিলে উল্টোবে ব্যাটিং। সেই ঝুঁকি তাঁরা নেননি। আর সেই স্ট্র্যাটেজিতেই বাজিমাত করেন তাঁরা।

চা পানের পর টানা চেষ্টা করেও লক্ষ্য থেকে নড়ানো যায়নি অশ্বিন ও হনুমাকে। ফলে শেষ পর্যন্ত কামিন্স, হ্যাজেলউড, স্টার্ক, লিয়ঁ, লাবুশেন ও গ্রিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবরকম চেষ্টা করেও উইকেট ফেলতে পারেননি।

১৬১ বল খেলে হনুমা করেন ২৩ রান। ১২৮ বল খেলে অশ্বিন করেন ৩৯ রান। ৪০৭ রানের টার্গেট দিয়েও ম্যাচ জিততে পারল না অস্ট্রেলিয়া।

সিডনিতে তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করে অজিরা ৩৩৮ রান করে। স্মিথ করেন ১৩১ রান।

পরে ব্যাট করতে নেমে ভারত করে ২৪৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও স্মিথের ৮১ সহ গ্রিনের ৮৪ এবং লাবুশেনের ৭৩ রানের কাঁধে ভর করে অস্ট্রেলিয়া করে ৬ উইকেটে ৩১২ রান।

এখানেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করে তারা। ভারতকে চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য দেয় ৪০৭ রানের। চতুর্থ ইনিংসে যে রান তোলা ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করেন এক কথায় অসম্ভব।

ভারত সেই রান তুলতে না পারলেও চেতেশ্বর পূজারার ৭৭ রান, রোহিতের ৫২ রান এবং অবশ্যই ঋষভ পন্থের ঝোড়ো ৯৭ রানের দাপটে ভারতও দেখিয়ে দেয় তারাও কম কিছু নয়।

আর শেষে অশ্বিন আর হনুমা যে ধৈর্য ও মনঃসংযোগের পরিচয় দিলেন তাকে তারিফ না করে উপায় নেই। ম্যাচের সেরা হন স্টিভ স্মিথ। যা দাঁড়াল তাতে চতুর্থ টেস্টে যে দল জিতবে সিরিজ তাদের।

Show Full Article
Back to top button