National

আশ্চর্য রং খেলা, এখানে বারুদ দিয়ে হোলি খেলেন সকলে

রংয়ের উৎসবে রংই আসল। আনন্দের আবহে আকাশে বাতাসে মিশে যায় নানা রং। কিন্তু এমনও এক জায়গা রয়েছে যেখানে হোলি খেলা হয় বারুদ দিয়ে।

বারুদের হোলি। এটাই নাম এই জায়গার আশ্চর্য হোলির। যা প্রায় ৪০০ বছর ধরে চলে আসছে। বারুদের হোলি একটা পরম্পরা। এখানে রং বা আবির নয়, বারুদ দিয়ে হয় হোলি খেলা।

এখানে হোলি হোলির দিন নয়, তার ২ দিন পর পালিত হয়। কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয়ার দিন এখানে হোলি পালিত হয়। তাও আবার সন্ধে নামার পর। এই এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ধরে ৫টি দল হাতে বন্ধুক তোপ নিয়ে হাজির হয় চারভুজা মন্দিরের সামনের বিশাল ফাঁকা মাঠে।

সকলের পরনে থাকে সাদা ধুতি, কুর্তা। মাথায় থাকে রঙিন পাগড়ি। এখানে পৌঁছে শুরু হয় বন্দুক থেকে আকাশে গুলি ছোঁড়া। এত গুলি চলতে থাকে যে মাঝে এক সেকেন্ডও থামে না।

তার সঙ্গে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুনের চারধারে দাঁড়িয়ে সকলে গুলি চালাতে থাকেন। পোড়ে অজস্র আতসবাজি। তোপও দাগা হয়। সন্ধে থেকে শুরু করে প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত এই বারুদের হোলি চলতে থাকে।

রাজস্থানের উদয়পুর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে মেনার নামে একটি জায়গা রয়েছে। প্রায় ৪০০ বছর আগে সেখানে মোগলরা ছাউনি ফেলে। মোগল সেনা সেই অঞ্চল দখলের জন্য হাজির হয়েছে এটা জানার পর মেনারের মানুষজন একত্র হন। নিজেদের মাটি বাঁচাতে তাঁরা একটি পরিকল্পনা করেন।

তাঁরা জানতেন মুখোমুখি লড়াই করতে গেলে মোগলদের সঙ্গে এঁটে ওঠা মুশকিল। তাই তাঁরা হোলির দিন মোগল ছাউনির সকলকে হোলির আমন্ত্রণ জানান। তারপর সন্ধে নামলে লুকিয়ে রাখা তোপ আর তরোয়াল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মোগল সেনার ওপর।‌

অপ্রস্তুত মোগল সেনাকে হারিয়ে দেন সংখ্যায় অনেক কম মেনারের মানুষজন। এই বিজয়কে চিরকাল মনে রাখার জন্য তারপর থেকে এখানে বারুদের হোলি পালিত হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হল এই বারুদের হোলিতে আগুন, বন্দুক, গুলি, আতসবাজি, তোপ সব ব্যবহার হয় ঠিকই, কিন্তু কারও এতটুকু ক্ষতি হয়না। এতটাই সাবধানে এই হোলি পালন করেন এখানকার মানুষ। বাঁচিয়ে রাখেন পরম্পরা।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *