সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জের সামশেরনগরে জাহাঙ্গীর বাউলে গিয়েছিলেন তাঁর ২ সঙ্গীকে নিয়ে। সেখানে কাঁকড়া ধরাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্যে। সুন্দরবনের অনেক পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গহন অরণ্যের গা ঘেঁষা নদীতে কাঁকড়া ধরতে যায়। এই কাঁকড়া বিক্রি করে পরিবারের মুখে অন্নের জোগান দেয়।
জাহাঙ্গীর বাউলে সেই কাঁকড়া ধরছিলেন। আচমকাই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে তাঁর ঘাড়ে লাফ দেয় বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বাঘের শক্তির সঙ্গে এঁটে উঠতে পারেননি তিনি। প্রতিরোধও করতে পারেননি।
বরং বাঘ দ্রুত তাঁকে টেনে নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে চলে যায়। জাহাঙ্গীরের সঙ্গীরা এই খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন বন দফতরের কর্মী আধিকারিকরা।
কাঁকড়া ধরে জীবনধারণ করা জাহাঙ্গীরের ২ সন্তান রয়েছে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার।
২টি ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে এরপর কীভাবে বড় করবেন তিনি তা বুঝে উঠতে পারছেন না জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। কান্না তাঁর বাঁধ মানছে না।
এসব এলাকায় দারিদ্র প্রত্যেকদিনের সঙ্গী। বহু পরিবার প্রতিদিন জীবনে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়। সেই লড়াই চালাতে গিয়েই মৃত্যু হল জাহাঙ্গীরের।
সুন্দরবনে এমনভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোজগারের টানে বহু মানুষ প্রতিদিন লড়াই করে চলেছেন। এঁদের পরিবার চায় একটু সুরক্ষা। বেঁচে থাকার ভরসা। যা তাঁদের আপনজনের জীবনের বদলে নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারের সাহায্য চাইছেন তাঁরা।