বাংলা সাহিত্য বললে যে কজন সাহিত্যিকের নাম মনে পড়ে যায় তাঁদের একজন অবশ্যই মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। যিনি শংকর নামেই পরিচিত পাঠককুলে, শিল্প সংস্কৃতির দুনিয়ায়। সেই বাংলা সাহিত্যের একটি যুগ শংকর চলে গেলেন পরপারে। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভাঙে। তারপর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তারপর হাসপাতালেই ছিলেন।
শুক্রবার বেলা ১টা নাগাদ চিরনিদ্রায় চলে যান বাঙালির প্রিয় শংকর। তাঁর জীবনাবসান এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করল বাংলা সাহিত্যের জগতে। পাঠক থেকে সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের মানুষজন এ খবর শোনার পর শোকস্তব্ধ। বাংলা সাহিত্যের একটা যুগের সমাপ্তি হল শংকরের পরলোকগমনে।
কত অজানারে উপন্যাস দিয়ে পথচলা শুরু করেন মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। তাঁর চৌরঙ্গী সহ একাধিক উপন্যাসের ভিত্তিতে বাংলা সিনেমাও তৈরি হয়। তাঁর লেখা সীমাবদ্ধ ও জন অরণ্য নিয়ে সত্যজিৎ রায় সিনেমা তৈরি করেন। তাঁর লেখা চিরকালই পাঠকদের মুগ্ধ করেছে। কত অজানারে দিয়েই মণিশংকর বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর লেখনীর ক্ষমতা। তাঁকে পাঠকরা শংকর নামেই চিনতেন।
১৯৩৩ সালে বাংলাদেশের যশোরে জন্ম হয় তাঁর। তারপর বাবার হাত ধরে কলকাতায় চলে আসা। সেখানেই পড়াশোনা। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বই অনেক রয়েছে। বেস্ট সেলার হিসাবে দীর্ঘদিন তাঁর বই পাঠককুলকে সমৃদ্ধ করেছে।
শংকরের লেখা চরণ ছুঁয়ে যাই, মাথার ওপর ছাদ, রসবতী, কামনা বাসনা, বিত্তবাসনা, চৌরঙ্গী, ঘরের মধ্যে ঘর, নগর নন্দিনী সহ অনেক বই বাঙালির চিরদিনের সঙ্গী হয়ে থেকে যাবে। শংকর চলে গেলেন। তবে তাঁর লেখার মধ্যে দিয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালি পাঠকের মনে।