Mamata Banerjee
ফাইল : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি - আইএএনএস

করোনার জেরে লকডাউন, সমস্যা জানাতে কন্ট্রোল রুম খুলল রাজ্য

করোনার জেরে দেশজুড়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন। বাড়িতেই কাটাতে বলা হয়েছে দেশবাসীকে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যেমন কেনার তা তেমনই কিনতে পারবেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার লকডাউনের মেয়াদ গত মঙ্গলবার ৩১ মার্চ করে দিলেও তা রাতেই বেড়ে পৌঁছে গেছে ১৪ এপ্রিলে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার জেরে এই দীর্ঘ লকডাউন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে, তাঁদের কোনও সমস্যায় তাঁদের পাশে থাকতে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। কোনও সমস্যায় সেখানে ফোন করা যাবে। ২টি নম্বরও জানিয়েছেন তিনি। একটি টোল ফ্রি নম্বর। নম্বরটি হল ১০৭০। অন্য একটি ল্যান্ডলাইন নম্বরও দিয়েছেন তিনি। নম্বরটি হল ০৩৩-২২১৪-৩৫২৬। করোনার গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখতে একটি টাস্ক ফোর্সও গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বহু মানুষের মনের কোণে জমে থাকা জিজ্ঞাসার উত্তর নিজেই দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাজার খোলা থাকবে। সবজি, মাছ, মাংসের দোকান খোলা থাকবে। সবজি বিক্রি করতে আসছেন এমন মানুষকে কোথাও কোথাও আটকানো হচ্ছে। এটা কড়া বার্তা দিয়ে মানা করেন তিনি। জানান কেউ সবজি বিক্রি করতে আসছেন এমন মানুষকে আটকানো যাবেনা। তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। হকারদের জন্য কার্ড বিলির কথাও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বাজারে এক দোকানে একসঙ্গে ভিড় না করতে নির্দেশ দেন। তিনি জানান, ভিড় করবেননা। কীভাবে একটি বাজারে দোকানগুলি পাশাপাশি বসবে। কতটা দূরত্ব থাকবে। ক্রেতারা কতটা দূরত্ব মেনে দাঁড়াবেন। তাঁদের দাঁড়ানোর জন্য লাইনে গোল করে দাগ দেওয়া হবে। ২ জনের মধ্যে সেখানে একটা দূরত্ব থাকবে। এভাবে একটি লাইনে ৭ জনের বেশি দাঁড়াতে মানা করেন তিনি। এটা কীভাবে হবে তা বোর্ডে এঁকে বুঝিয়েও দেন।

কারও জ্বর হলে স্থানীয় থানায় খবর দিলে থানা তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত করবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মানবিকতার বার্তা দিয়ে জানান, কারও জ্বর হলে তাঁকে আলাদা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেননা। জ্বর যে কারও হতে পারে। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা খাবার পাচ্ছেন না এমন মানুষজন বিডিও বা আইসি-কে জানালে তাঁর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হবে। সেইসঙ্গে গৃহহীন যাঁরা ফুটপাথে থাকেন, তাঁদের জন্য তৈরি নাইট শেল্টারে তাঁদের থাকতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *