স্থান বদল হলে মকরসংক্রান্তির নাম যায় বদলে, বদলায় পালনের রীতি, খাওয়াদাওয়া
মকরসংক্রান্তি সারা দেশেই ধুমধাম করে পালিত হয়। আনন্দটা এক হলেও পালনের রীতি রেওয়াজ হয় আলাদা। খাওয়াদাওয়ার নিয়মও যায় বদলে। এও এক বৈচিত্র্যের মাঝে মিলন।
মকরসংক্রান্তি মানে পুণ্যস্নান। মকরসংক্রান্তি মানে আনন্দ। উৎসবের মেজাজ। মকরসংক্রান্তির দিন মানে ঘুড়ির রংয়ে মুখ ঢাকা আকাশ। মকরসংক্রান্তি মানে পিঠেপুলি থেকে খাওয়াদাওয়ার এক বিপুল আয়োজন। আর মকরসংক্রান্তি মানে স্থান ভেদে যার নাম যায় বদলে।
পৌষ মাসের শেষ দিনটা পালনের রীতি রেওয়াজও বদলে যায় রাজ্য বদলে গেলে। বাংলা ক্যালেন্ডারে দিনটা পৌষসংক্রান্তি। এদিন গঙ্গাসাগর থেকে শুরু করে গঙ্গা সহ বিভিন্ন নদীতে পুণ্যস্নান করেন মানুষজন।
পূজার্চনা ও রীতি পালনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মকরসংক্রান্তি পালন। থাকে নানাধরনের পিঠে, পুলির এলাহি সম্ভার। অনেক পরিবারেই এই দিনটায় বিশেষ খাবারের রীতি রয়েছে। যে তালিকায় পিঠে সবার আগে জায়গা করে নেয়।
বাংলায় পৌষের শেষ দিনটি মকরসংক্রান্তি নামে পরিচিত হলেও অসমে এদিনটা মাঘ বিহু। এদিন আগুনের ধারে বিহু নাচে মেতে ওঠেন অসমের বাসিন্দারা। চলে নানাধরনের পারম্পরিক পদ রেঁধে খাওয়াদাওয়া।
পঞ্জাবে আবার মকরসংক্রান্তি মানে লহরী। অসমের মত পঞ্জাবেও আগুন জ্বালিয়ে সেই আগুনকে ঘিরে নাচে মেতে ওঠার রীতি প্রচলিত। এই সময়টা শীতকাল। তাই হয়তো আগুন জ্বেলে তার চারধারে নাচে মেতে ওঠার এই রীতি এতটা জনপ্রিয়। এদিন পঞ্জাবের মানুষ তাঁদের সনাতনি লোকগীতির সুরে মেতে ওঠেন।
গুজরাটে আবার মকরসংক্রান্তি মানে উত্তরায়ণ। যদিও ভৌগলিক নিয়ম মেনে উত্তরায়ণ শুরু হয়েছে আগেই। তবে গুজরাটের মানুষ মকরসংক্রান্তি পালন করেন উত্তরায়ণ নামে। সেখানে মকরসংক্রান্তির নামটাই উত্তরায়ণ। যেদিন সেখানে ঘুড়িতে ভরে যায় আকাশ। মানুষ এদিন ঘুড়ি ওড়ানোয় মেতে ওঠেন। আর উৎসবটা যখন ভারতের, তখন সে যে প্রান্তেই হোক না কেন, খাওয়াদাওয়ার একটা এলাহি আয়োজন তো থাকবেই।
উত্তরপ্রদেশে আবার মকরসংক্রান্তি মানে খিচুড়ি পরব। এই দিনে উত্তরপ্রদেশের অধিকাংশ বাড়িতে খিচুড়ি রান্না হয়ে থাকে। এই দিনে খিচুড়ি খাওয়া এখানকার প্রাচীন পরম্পরা।
বাংলায় যা মকরসংক্রান্তি তা মহারাষ্ট্রে আবার কেবলই সংক্রান্তি। মহারাষ্ট্রে এই দিনটি পালিত হয় উৎসবের মেজাজে। প্রায় প্রতি বাড়িতেই তিল গুড় দিয়ে তৈরি নাড়ু খাওয়া হয়।
তামিলনাড়ুতে মকরসংক্রান্তির দিনটিতে পালিত হয় সেখানকার অন্যতম প্রধান উৎসব পোঙ্গল। এদিন তামিলনাড়ু জুড়ে বাড়িতে বাড়িতে পূজার্চনা হয়। তৈরি হয় চাল দিয়ে একটি খাবার। যার নাম পোঙ্গল।
কেরালায় মানুষ এই দিনটিতে সবরিমালার মন্দিরে গিয়ে মকর জ্যোতি দর্শন করেন। কেরালায় মকরসংক্রান্তি মকর ভিলাক্কু নামে পালিত হয়। আবার কর্ণাটকে মকরসংক্রান্তি হল মকর সংক্রমণ। কর্ণাটকে এদিন মন্দিরে পুজো দিয়ে মানুষজন নিজেদের মধ্যে আখ আদানপ্রদান করে থাকেন।













