২ প্রান্ত, ২ দোল, কোথাও কেবল হলুদ তো কোথাও বিছে
রং খেলা তো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হয়। তবে তার মধ্যেও বৈচিত্র্য রয়েছে। ব্যতিক্রমী এক দোলে কেবল কাঁচা হলুদ ব্যবহার হয়। আবার কোথাও বিছের সঙ্গে দোল খেলেন মানুষজন।
রংয়ের উৎসব সারা ভারত জুড়েই প্রতিবছর পালিত হয়। বাংলা সহ ভারতের নানা প্রান্তে রং, আবির নিয়ে যেমন সাধারণ রং খেলা, তাতে পাড়ায় পাড়ায় মেতে ওঠেন সকলে। কিন্তু রং খেলাতেও কিছু বৈচিত্র্য নজর কেড়ে নেয়। যেমন ভারতে এক প্রান্তে যখন বিছে ছাড়া দোল হয়না, তেমনই অন্য প্রান্তে হলুদ ছাড়া দোল নয়।
উত্তরপ্রদেশেও রং খেলা হয় চুটিয়ে। সেখানে ইটাওয়ার সৌন্থানা নামে জায়গাতেও রং দিয়ে হোলি খেলার পাশাপাশি এক বিশেষ রীতি প্রচলিত। সেখানে রংয়ের উৎসবে শামিল হয় কাঁকড়াবিছেরাও।
এখানে একটি উঁচু জায়গা রয়েছে যাকে স্থানীয়রা ডাকেন ভৌনসান দেবী টিলা বলে। সেখানে সকলে একত্র হয়ে এক বিশেষ ধরনের গানে মেতে ওঠেন। সেই ফাগ নামে গান সেখানকার দোলের লোকগীতি।
এই টিলার পাথরের আনাচেকানাচে অনেক কাঁকড়াবিছে পাওয়া যায়। ফাগ গানে মেতে ওঠার পাশাপাশি বিষাক্ত সেসব কাঁকড়াবিছেদের ধরতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা।
তারপর সেই কাঁকড়াবিছে নিজেদের গায়ে নিজেরাই ছেড়ে দেন। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন দেবীর কৃপায় তাঁদের কোনও ক্ষতি করবেনা এই কাঁকড়াবিছেরা। এভাবেই এখানকার মানুষ কিন্তু প্রতিবছর কাঁকড়াবিছের সঙ্গে রং খেলায় মেতে ওঠেন।
এ তো গেল উত্তরপ্রদেশের কাঁকড়াবিছের সঙ্গে দোল। আবার দেশের অন্য এক প্রান্তে দোলে হলুদ হয়ে ওঠেন সকলে। এখানে অন্য কোনও রং ব্যবহার নিষিদ্ধ। লিখিত নয়, প্রথাগতভাবে এটাই হয়ে আসছে।
এখানে ২ দিন ধরে এই রংয়ের উৎসব পালিত হয়। তবে প্রথম দিনে সবাই মন্দিরে পুজো দিয়ে ঈশ্বরকে দর্শন করেন। প্রথম দিন কেরালার কোচি শহরের গোসরিপুরম থিরুমা কোঙ্কণি মন্দিরে তাই উপচে পড়ে ভক্তের ভিড়।
নিয়ম হল মন্দিরে সারাবছর যে হলুদ পুজো দেওয়া হয়, সেই হলুদ সংগ্রহ করে তা মিশিয়ে দেওয়া হবে জলে। জল হয়ে উঠবে হলুদ। তারপর সেই জল দিয়ে হয় রং খেলা। এই হলুদ রং খেলার নাম ‘মঞ্জুল কুলি’। এটাই কেরালার প্রসিদ্ধ রং খেলা। কোনও রাসায়নিক রং নয়, কাঁচা হলুদের জলে এখানে স্বাস্থ্যকর রং খেলায় মাতেন সবাই।













