World

মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সঈদের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ভারতের কাছে হাফিজ সঈদ সন্ত্রাসবাদী নেতা তো বটেই, সেইসঙ্গে তার আরও একটি পরিচয় সে মুম্বই হামলার মূলচক্রী। সেই হাফিজ সঈদের ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিল আদালত।

ইসলামাবাদ : মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সঈদকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করল পাকিস্তানের অ্যান্টি টেররিজম কোর্ট। ১৫ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড হয়েছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান হাফিজ সঈদের। যাকে সকলে চেনে মুম্বই হামলার মূল চক্রী হিসাবে।

জামাত-উদ-দাওয়া এখন নিষিদ্ধ সংগঠন। পাক আদালত অবশ্য এদিন হাফিজকে মুম্বই হামলার কারণে শাস্তি দেয়নি। দিয়েছে অন্য মামলার প্রেক্ষিতে।

পাকিস্তানে হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে ২৩টি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত মামলা রয়েছে। যার একটি একটি করে মামলার রায় সামানে আসছে। এদিন হাফিজ সঈদ ছাড়াও হাফিজ আবদুল সালাম, জাফর ইকবাল, মহম্মদ আশরফ এবং ইয়াইয়া মুজাহিদ নামে ৪ সন্ত্রাসবাদীকেও একই শাস্তি দিয়েছে আদালত।

কারাবাসের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছে। প্রত্যেককে ২ লক্ষ করে পাকিস্তানি মুদ্রায় জরিমানা দিতে হবে। এরা ছাড়াও হাফিজ আবদুল রেহমান মাক্কি-কে এই একই মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

হাফিজ সঈদের ক্ষেত্রে অবশ্য এই প্রথম সাজা ঘোষণা হল না। আগেও তার কারাদণ্ডের সাজা হয়েছে। গত নভেম্বরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ সাহায্যের জন্য হাফিজের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তারও আগে অন্য মামলায় সেপ্টেম্বরে ও গত ফেব্রুয়ারিতেও তার সাজা ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু কোনওটাই মুম্বই হামলা কেন্দ্রিক মামলা ছিলনা। ভারত কিন্তু বারবার হাফিজের বিরুদ্ধে মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার তথ্য পাকিস্তানকে দিয়েছে।

যে পাকিস্তান এতদিন ধরে হাফিজ সঈদ সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদীর নিশ্চিন্ত আশ্রয় হয়ে এসেছে, সেখানে হাফিজের বিরুদ্ধে কেন মামলা হল সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এর পিছনেও কারণ রয়েছে।

বিশ্বের কোথায় কোথায় সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে অর্থ সাহায্য হচ্ছে তার খবর রাখে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। তারা পাকিস্তানকে গ্রে লিস্ট-এর অন্তর্গত করে। তারপরই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় পাক সরকার।

দেখা গেছে পাকিস্তানকে গ্রে লিস্টে ঢোকানোর পরই হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে একের পর এক সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার মামলা দায়ের করতে থাকে তারা। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button