জিলিপির টানেই এই মেলায় হাজির হন বহু মানুষ, জিলিপি মেলা বসে এই বাংলাতেই
জিলিপি খেতে কার না ভাল লাগে। মানুষের সেই জিলিপির প্রতি ভালবাসা থেকে এই বাংলার বুকেই ১৬০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে জিলিপি মেলা।
মেলা তো পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের বিনোদনের এক অঙ্গ। এক মিলনক্ষেত্রও বটে। তবে সাধারণ মেলার তালিকার বাইরেও এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এমন কিছু মেলা হয় যা নজর কেড়ে নেয়।
তেমনই একটি মেলা জিলিপি মেলা। জিলিপি ভালবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। জিলিপি প্রায় সব এলাকাতেই পাওয়া যায়। সেই জিলিপিকে কেন্দ্র করে একটি মেলাও অনুষ্ঠিত হয়।
যেখানে আনুমানিক ১ হাজার ৬০০ কুইন্টালের বেশি জিলিপি বিক্রি হয়। ঝাড়গ্রামের বিনপুরের হাড়দা গ্রামের এই জিলিপি মেলা পশ্চিমবঙ্গের এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজোর সময় এই মেলা বসে। বলা যায় লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করেই এই মেলার আয়োজন হয়। মেলায় যেমন অনেক কিছু বিক্রি হয় এ মেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে মেলার নাম জিলিপি মেলা।
জিলিপি মেলা শুনে অনেকের মনে হতেই পারে যে এখানে সারি দিয়ে জিলিপির দোকান বসে। বাস্তব কিন্তু তা নয়। বরং এই মেলায় জিলিপির দোকান ১টিই থাকে। তাও আবার নিলামে অংশগ্রহণ করে এই দোকান দেওয়ার বরাত পেতে হয় প্রতিবছর। দামও বেঁধে দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজো কমিটির তরফে।
তারপরেও এই জিলিপি মেলায় দোকান দেওয়ার জন্য রীতিমত টক্কর চলে। এ মেলায় ওই ১টি জিলিপির দোকান থেকেই জিলিপি বিক্রি হতে থাকে। এখানে চালের গুঁড়ি আর বিউলির ডালের গুঁড়ি মিশিয়ে জিলিপি তৈরি হয়। যা ২ সপ্তাহের ওপর ভাল থাকে। নষ্ট হয়না।
এই মেলায় আর যাই বিক্রি হোক না কেন, মানুষ হাজির হন জিলিপির টানেই। সেটাও আশপাশ থেকে নয়, দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ট্রেনে বাসে চেপেও হাজির হন এই জিলিপি মেলার টানে। লাগোয়া রাজ্য থেকেও অনেক মানুষ আসেন জিলিপি মেলা স্বচক্ষে দেখতে আর জিলিপিতে মন ভাল করা কামড় দিতে। মেলা চলে ভাইফোঁটা পর্যন্ত।













