অ্যান্টার্কটিকায় ১০ মাস একসঙ্গে ১২ জন, উঠে এল অস্বস্তিকর এক শিক্ষা

বিপদ শুধু একাকীত্ব নয়, নির্দিষ্ট কয়েকজন মানুষের সঙ্গে মাসের পর মাস কাটানোও তৈরি করতে পারে অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব এবং আলাদা গোষ্ঠী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মিত চিত্রে অ্যান্টার্কটিকায় জীবন যাপন, প্রতীকী ছবি

ভাবুন, আপনার চারপাশে বরফ ছাড়া প্রায় কিছুই নেই। চাইলেই বাইরে বেরিয়ে অন্য মানুষের সঙ্গে দেখা করা যাবেনা। বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। পরিচিত পৃথিবী বহু দূরে। আর দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আপনার সঙ্গে রয়েছেন সেই একই কয়েকজন মানুষ।

প্রথমে হয়ত তাঁদের সঙ্গই একাকীত্ব কাটানোর সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু ১০ মাস পরে? সেই মানুষগুলির উপস্থিতিই কি একসময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে?

অ্যান্টার্কটিকার অত্যন্ত দুর্গম কনকর্ডিয়া স্টেশনে ১২ জনকে নিয়ে করা একটি গবেষণা সেই প্রশ্নেরই কিছুটা অস্বস্তিকর উত্তর দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার সমস্যা শুধু একাকীত্ব নয়। একই ছোট দলের মানুষের সঙ্গে প্রায় সারাক্ষণ থাকতে হওয়াও বাড়াতে পারে দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস এবং সামাজিক দূরত্ব।

আর এই কারণেই গবেষণাটির দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ ভবিষ্যতে মানুষ যদি চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘসময়ের জন্য যায়, সেখানেও পরিস্থিতি অনেকটা এমনই হতে পারে।

কনকর্ডিয়া স্টেশন পৃথিবীর অন্যতম বিচ্ছিন্ন গবেষণাকেন্দ্র। অ্যান্টার্কটিকার শীতকালে এখানে পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে দীর্ঘসময় বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনে মানুষের আচরণ বোঝার জন্য জায়গাটিকে একধরনের বাস্তব পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করেন গবেষকেরা। আন্তর্জাতিক গবেষক দলের এই গবেষণায় কনকর্ডিয়ায় শীত কাটানো ১২ জন সদস্যকে প্রায় ১০ মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকদের প্রশ্ন ছিল সহজ, কিন্তু ভবিষ্যতের মহাকাশ যাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব কম জায়গায় একই মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আটকে থাকলে একটি দলের সামাজিক সম্পর্ক কীভাবে বদলায় সেটাই জানার চেষ্টা করেন গবেষকরা।