বাঁকুড়ার সোনামুখীতে দামোদর নদের চরে তখন বিকেল নেমেছে। আলতো বিকেলের আলোয় স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেই সময় জলের ধারে মাটিতে একটি জিনিস গেঁথে থাকতে দেখেন।
জিনিসটি যে চেনা এমনটা নয়। এখানে যে এমন কিছু আগে দেখেছেন এমনও নয়। এই প্রথম মাটিতে উঁকি দেওয়া বস্তুটি নজর কাড়ল তাঁদের। ঝুঁকি নেননি তাঁরা। দৌড় দিয়ে আশপাশের মানুষজনকে বিষয়টি জানান। খবর যায় পুলিশের কাছেও।
দামোদরের চরে ধাতব কিছু একটা মাটি থেকে উঁকি দিয়েছে। এটা জানার পর অনেক কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমান সেখানে। পুলিশ এসে জায়গাটি দ্রুত ঘিরে দেয়। দেখে প্রাথমিকভাবে এটা বোঝা যায় যে সেটি কোনও অস্ত্র। কিন্তু কি?
সেটা জানার জন্য ও সেটি কীভাবে সেখান থেকে সরানো হবে তা স্থির করতে খবর দেওয়া হয় ভারতীয় সেনাকে। ভারতীয় সেনার একটি দল এসে বস্তুটি খতিয়ে দেখে। জানা যায় সেটি একটি মর্টার। তবে হালফিলের নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের মর্টার। যা এই প্রথম এখানে উঁকি দিল।
সেনার তরফে ওই চত্বর খুঁজে আরও একটি এমন মর্টারের খোঁজ পাওয়া যায়। এখানে অবশ্য এমন যুদ্ধাস্ত্র পাওয়া নতুন নয়। কারণ একটা সময় এখানে ব্রিটিশ ও মার্কিন বায়ুসেনার ঘাঁটি ছিল। এখান থেকেই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় হানা দিত তারা।
হানা দেওয়া হত জাপানেও। তারাই এখানে অনেক জায়গায় মাটি ও বালির তলায় এমন যুদ্ধাস্ত্র পুঁতে রেখেছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।