সমুদ্রের ধারের বালুকাবেলার খুব কাছেই সমুদ্রের জলের তলায় একটা জলপ্রপাত। এ দৃশ্য আশ্চর্য করতে পারে। কিন্তু সেটাই তো নজর কাড়ে। সমুদ্রের জলের রং এখানে ফিরোজা। এ এক একদম অন্যরকম সবুজ আর নীলের সমন্বয়।
সেই সমুদ্রের জলের উপরিস্তর থেকে এক জায়গায় তার তলাটা স্পষ্ট দেখা যায়। আর সেদিকে নজর গেলেই দেখা যায় একটি জলপ্রপাত জলের উপরিস্তরের ঠিক তলা থেকে সমুদ্রেরই গভীরে ঝরে পড়ছে।
জলের মধ্যে জলপ্রপাত! এ কীভাবে সম্ভব? কিন্তু চোখে তো সেটাই ধরা পড়ে মরিশাসে। মরিশাসের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে লে মনরে পেনিনসুলা। সেখানেই জলের তলায় এক আশ্চর্য দৃশ্য নজর কাড়ে। যা দেখতে অনেক পর্যটকই ছোট ছোট বিমানে উড়ে যান ঠিক তার উপরে। তারপর হতবাক হয়ে চেয়ে থাকেন প্রকৃতির এই আশ্চর্যের দিকে।
এখানে অনেকেই প্রশ্ন করেন জলের তলায় এমন জলপ্রপাত কি সত্যিই রয়েছে? মরিশাসের সমুদ্রের ধার ধারেই রয়েছে জলের তলায় অনেক খাড়াই অংশ। মরিশাস তৈরি হয়েছিল আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে। প্রায় ৮০ লক্ষ বছর আগে মরিশাসের জন্ম।
এখানে সমুদ্রে অনেক এমন খাড়াই পাথর রয়েছে জলের তলায়। সমুদ্রের ধার থেকে ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসা বালি ও পলি এই জলের তলার খাড়াই অংশ ধরে নিচের দিকে জলের সঙ্গে ধাবিত হয়।
এই বালি ও পলি এমনভাবে এখানে খাড়াই অংশ ধরে জলের তলায় যাওয়ার মত করে জমাট বাঁধে যে এটি দেখলে মনে হয় যেন জলপ্রপাত। জলের তলার জলপ্রপাত। তবে বাস্তব যাই হোক, মানুষের কাছে এটা জলের তলার জলপ্রপাতই।
তাই পর্যটকরা কেউ চড়ে পড়েন কাছের উঁচু পাহাড়ে। যার ওপর থেকে এই জলের তলার জলপ্রপাত দেখা যাবে। কেউ আবার ছোট বিমানে জল থেকেই উড়ে যান আকাশে। তারপর ঠিক ওই জলপ্রপাতের অংশের ওপর দিয়ে ২ চোখ ভরে উপভোগ করেন পৃথিবীর এই আশ্চর্য দৃশ্য। যা দৃষ্টিভ্রমও বটে।