Kolkata

জমজমাট শহরের এই মেঠো মেলার বড় প্রাপ্তি চাপমুক্ত এক বুক অক্সিজেন

শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই মেলা আসলে শহুরে জীবনে একটা দমকা ঠান্ডা হাওয়ার মত। যা শরীর মনকে হঠাৎ যেন তরজারা করে দেয়। বুক ভরে দেয় জীবনের অক্সিজেনে।

মেলার সঙ্গে শহরপারের সখ্যতাটা একটু বেশি। শহরের বাইরে মেলার একটা অন্যই আকর্ষণ। আর শহরে মেলা বলতে সেটা বইমেলার মত বড় মাপের কিছু হতে পারে। কিন্তু শহরের বুকেই একটা বিশাল মাঠে একটি মেঠো মেলার গন্ধে ভরা বৈচিত্র্যের সম্ভার এক বড় প্রাপ্তি।

সেটাই প্রতিবছর উপহার দিয়ে চলেছে সুভাষ মেলা। কাঁকুড়গাছিও বলা যায়, আবার ফুলবাগানও বলা যায়। এরই মাঝে ইট, কাঠ, পাথরের জঙ্গলের মাঝে একটা বিশাল মাঠে বসা এই মেলার অন্যই আকর্ষণ।

এই মেলায় যেমন পাওয়া যায় সাংসারিক প্রয়োজনের জিনিস, তেমনই রকমারি সাজগোজের উপকরণ, রয়েছে মহিলাদের জন্য আধুনিক ফ্যাশনের পোড়ামাটি থেকে চট, ঝিনুক থেকে ধাতুর নানা মনোলোভা গয়না। আছে শাড়ি থেকে পাপোষ, ব্যাগ থেকে ঘরে ব্যবহারের বাহারি পোশাক। আছে হাজারো স্বাদের মুখশুদ্ধির পসরা।

২০ টাকা থেকে হাজার টাকা। সব অর্থনৈতিক অবস্থার মানুষের জন্যই এখানে কিছু না কিছু পাওয়াই যাচ্ছে। ফলে চাইলে কিছু না কিছু কিনে বাড়ি ফেরাটা নিশ্চিত।

সুভাষ মেলা একটি মাঠে হলেও এ মেলার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে মেলার আশপাশের রাস্তাতেও একটা মেলা হয়ে চলেছে। অনুসারী মেলার মত। সেখানেও নানা পসরা সাজিয়ে ফুটের ধারে বসে পড়েন মানুষজন। নানা স্বাদের খাবারের পসরা মেলায় ঢোকার আগেই মানুষের মন টানে।

মাঠের ওপর পায়ে পায়ে এগিয়ে চলা। স্টলের ধার ধরে এত মানুষের পাদচারণা একটা আলাদা ধুলোর আস্তরণ তৈরি করে এখানে। এ মেলায় সন্ধে বড়ই মোহময়। আলো ঝলমলে। যেখানে অবিরাম হয়ে চলেছে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যা এই মেলাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

একটু সময় তো সেই নাচ, গান সহ নানা অনুষ্ঠানে ভরা এই মঞ্চের সামনে কাটানোই যায়। আর রয়েছে ছোট থেকে বড় সকলের জন্য নানা ধরনের রাইড। যেখানে চড়ার পর আনন্দে, উত্তেজনায় অনেকের গলার শব্দ মিশে যাচ্ছে মেলার উচ্ছ্বাসে।

এবার আসা যাক খাওয়াদাওয়ায়। বাঙালির যে কোনও উৎসব আনন্দ মেলায় হাজির হয়ে রসনা তৃপ্তির টান অমোঘ। জিভে জল আনা এমন নানা খাবারের পসরা তাই সাজানো সুভাষ মেলায়। বাদাম, মটর ভাজা থেকে ফুচকা, ফিশ ফ্রাই, ভেলপুরি, চাউমিন, চিকেনের নানা পদ, ঘুগনি, রোল কি নেই! মুখরোচক খাবারের কমতি নেই এই মেলা প্রাঙ্গণে।

শহুরে জীবনের একঘেয়েমি, মানসিক চাপ, কাজের চাপে ক্লান্ত মানুষজন এই মেলায় এলে উপহার পান এক দারুণ উপভোগ্য সন্ধের। যা অল্প সময়ের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয় সবকিছু। বন্ধু হোক বা মনের মানুষ, পরিবার হোক বা একাকী, এ মেলা সকলকে কাছে টানে। বুক ভরে দেয় মন ভাল করার অক্সিজেনে।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *