মঙ্গলঘটে মাটি নেই, ছাতা রোদ বৃষ্টি আটকায়না, তবে অন্য কারণে এদের চাহিদা তুঙ্গে
হাতের কাজের মূল্য তো অনেক। কিন্তু কজন তার প্রকৃত কদর করেন। সঠিক যোগাযোগ আর আর্থিক সহায়তা পেলে বাংলার শিল্পীদের সৃজনশীল ভাবনা অন্য মাত্রা নিতে পারে।
মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : আমার এই ছোট্ট ঝুড়ি, এতে রাম রাবণ আছে, ছোটবেলা থেকে অনেকেই এই গান শুনে বড় হয়েছেন। সুজলা সুফলা পশ্চিমবঙ্গে বাঁশ, বেতের কোনও অভাব নেই। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এদের বেড়ে উঠতে দেখা যায়। তাই বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি ঝুড়িরও কমতি নেই।
গ্রামীণ হাটগুলি ছাড়াও শহর থেকে শহরতলীর সব জায়গায় কমবেশি বাঁশ, বেতের ঝুড়ি বিক্রি হয়। তাই সকলেই বাঁশ ও বেতকে মূলত ঝুড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ বলেই জানেন। কিন্তু মানুষের সৃষ্টিশীল মন কখন যে কি থেকে কি তৈরি করে চমকে দেবে তা কেউ জানেনা।
শীতকাল জুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। যার অন্যতম বিষয় অনেক ক্ষেত্রেই বাংলার হস্তশিল্প। বিভিন্ন মেলা এবং প্রদর্শনীতে গেলে শিল্পীদের হাতের কাজের দক্ষতা দেখতে পাওয়া যায়। এইসব জায়গাগুলিই নতুনত্বের আঁতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত।
হুগলির গোঘাটের এমনই এক হস্তশিল্পী হলেন পূর্ণিমা শীল। তিনি বাঁশ, বেত দিয়ে ঝুড়ি, ফুলের সাজি বানিয়ে বিক্রি করেন। রাজ্যের মেলাগুলিতে আসেন এবং নিজের গ্রামের হাটেও পসরা সাজিয়ে বসেন। কিন্তু একঘেয়ে ঝুড়ি বানাতে বানাতেই হঠাৎ তাঁর ইচ্ছা হয় নতুন কিছু করার।
বাঁশ এবং বেতের মত সাধারণ উপকরণকে কাজে লাগিয়েই পূর্ণিমা শীল তৈরি করেছেন মঙ্গলঘট। নিঃসন্দেহে যা অভিনবত্বের দাবিদার। তবে তাঁর তৈরি একটি ছাতা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। যা রাঢ় বাংলার শীতকালীন অনুষ্ঠান বাদনা পরবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও যাত্রা বা নাটকের মঞ্চেও এই ছাতা কাজে লাগে। চাইলে কেউ ঘর সাজানোর জন্যও ছাতাটি নিজের বাড়িতে রাখতে পারেন।
পূর্ণিমা শীলের হাতের কাজ দেখে অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গোঘাটের গ্রামীণ হাট থেকে রাজ্যের বিভিন্ন মেলা এবং প্রদর্শনীগুলিতে তো তাঁকে পাওয়াই যায়। তবে পূর্ণিমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি ক্রেতাদের চাহিদামত জিনিস সরবরাহ করে থাকেন। তাঁর মঙ্গলঘটও দারুণ জনপ্রিয়। ঘর সাজানোর পাশাপাশি এ মঙ্গলঘটকে ঘট হিসাবে ব্যবহার করাও সম্ভব।













