সবুজের মাঝে উজ্জ্বল নীল চোখ নিয়ে চেয়ে থাকে একচক্ষু দানব

এ দেখে বিশ্বাস করা কঠিন। এক ধোঁয়া ওঠা উজ্জ্বল নীল চোখে আকাশের দিকে চেয়ে আছে একচক্ষু দানব। সুন্দর আর ভয় এখানে মিলেমিশে একাকার।

ইন্দোনেশিয়ার কাওয়া ইজেন হ্রদ, ছবি - সৌজন্যে - উইকিমিডিয়া কমনস

চারিদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ বনানী। পাহাড় আর সবুজ জঙ্গলের মাঝে একটি পাহাড় তার একাধিক বৈশিষ্ট্যের জন্য সবার চেয়ে আলাদা। যার মাথার ওপর একটি বিশাল গোল চোখ চেয়ে থাকে আকাশের দিকে। চোখ জুড়ে টলটল করে উজ্জ্বল নীল জল। যার আশপাশ দিয়ে বার হতে থাকে মৃদুমন্দ ধোঁয়া। আর এই জলের চারধারে ছড়িয়ে থাকে উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের শুকনো জমি।

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের ইজেন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ জুড়ে তৈরি হয়েছে একটি হ্রদ। যা স্রেফ মিষ্টি জলের হ্রদ নয়। কাওয়া ইজেন হ্রদ আসলে একটি তীব্র অ্যাসিডের জল।

আগ্নেয়গিরির পেটের মধ্যে জ্বলতে থাকা আগুন সালফিউরিক গ্যাস নির্গত করতে থাকে। যা ওই অনেক ধরনের ধাতু মেশা ঘন তরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। ফলে সেখানে তৈরি হয় সালফার মেশা এক তরল। যার রং হয় উজ্জ্বল নীল।

এমন এক উজ্জ্বল নীল যা রাতের অন্ধকারেও জ্বল জ্বল করতে থাকে। তাই অনেকে রাতের অন্ধকারেও এই হ্রদকে কেমন লাগে তা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন।

এই হ্রদের চারধারে যে পাথুরে অংশ রয়েছে সেখানে আবার উজ্জ্বল নীল নয়, উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের স্তর দেখতে পাওয়া যায়। যা শুকিয়ে যাওয়া সালফারের কারণে তৈরি হয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।

এই হ্রদ দেখতে অনেক পর্যটক আকাশ পথে চক্কর দেন। আবার অনেকে ৩ ঘণ্টার লড়াইয়ে পৌঁছে যান আগ্নেয়গিরির মাথায় থাকা সেই হ্রদের ধারে। একদম পাশ থেকে দাঁড়িয়ে দেখেন প্রকৃতির এই ভয়ংকর সুন্দর সৃষ্টিকে।