Sports

বৃষ্টি ভেজা ইংল্যান্ডে ভারতীয় তুফান, তছনছ পাকিস্তান

অতীতের সেই স্নায়ুর চাপ নেই। সেই টানটান উত্তেজনা। পাকিস্তানকে ক্রিকেটে হারানো এখন ভারতের বাঁ হাতের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতদিন পর ভারত-পাকিস্তান ওয়ান ডে ম্যাচ। ফলে পুরনো সেই উত্তেজনাটা বোধহয় দুই দেশের আমজনতার মধ্যে চাগাড় দিয়েই ছিল। কিন্তু যেভাবে এদিন বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১২৪ রানে ভারত জিতল তাতে জেতার খুশি আলাদা করে পালন করার উৎসাহটুকুও পেলেন না ভারতীয়রা। মামুলি একতরফা ম্যাচে শুরু থেকে শেষ, ভারতই খেলে গেল। পাকিস্তান দলটাকে এদিন নিরুৎসাহ ক্লাব ক্রিকেটের দল বলেই মনে হয়েছে বারবার। এদিন টস জিতে এজবাস্টনে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। শুরুতে পাকিস্তানের মহম্মদ আমের, হাসান আলিরা বলটাও দারুণ করছিলেন। পাওয়ার প্লে-র সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাওয়ার শট দেখাতে পারছিলেন না রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ানরা। অত্যন্ত ধীর গতিতে রান উঠছিল। প্রায় ৮ ওভার এমন চলার পর হাত খোলেন ধাওয়ান। সঙ্গে ক্রিকেটোচিত শট দেখান রোহিত। রানের গতি কিছুটা গিয়ার বদলায়। তবে তাও যথেষ্ট ছিলনা। এর মাঝেই ছন্দপতন। বৃষ্টিতে বন্ধ ম্যাচ। ফের খেলতে নেমে শিখরের মারকুটে ব্যাট স্কোর বোর্ডকে ১৩৬ রানে নিয়ে যায়। এরপর শিখর ৬৮ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার পর রোহিতের সঙ্গে সঙ্গত গড়েন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। রানের গতি ঠিক রাখলেও রান যে খুব দ্রুত উঠছিল তা নয়। ১১৯ বলে ৯১ রান করে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রোহিত। জুটি বাঁধেন যুবরাজ-বিরাট। ব্যক্তিগত ৮ রানের মাথায় যুবরাজের ভুল শটে ক্যাচ ওঠে। কিন্তু সেই সহজ ক্যাচ ফস্কান হাসান আলি। ক্যাচ ফস্কে যে কার্যত ম্যাচ ফস্কালেন তিনি তা বোধহয় তখনও টের পাননি হাসান। পেলেন তারপর। জীবন পেয়ে আচমকাই আগ্রাসী হয়ে ওঠে যুবরাজের ব্যাট। শুরু হয় মাঠে যুবরাজের আতসবাজির খেলা। চার আর ছয়ের বন্যা। অন্যদিকে দাঁড়িয়ে বিরাটের তরুণ কব্জিও চুপ করে থাকেনি। একসময় ৩০০ রান যেখানে প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল, সেখানে ছবিটা ক্রমশ বদলাতে শুরু করে। এই অবস্থায় ফের বিরাটের ক্যাচও হাতছাড়া করে পাকিস্তান। শুরু হয় মারকাটারি ব্যাটিং। যার হাত ধরে সহজেই ৩০০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছন যুবি-বিরাট। সেখানেই যুবরাজ এলবিডব্লিউ হয়ে ৩২ বলে ৫৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। ব্যাট করতে নামেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। শেষ ওভারে প্রথম ৩টে বলে ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতীয় ইনিংসের একটা উপভোগ্য সমাপ্তি উপহার দেন তিনি। শেষ বলেও একটা ৪ হাঁকান ভারতের এই তরুণ অলরাউন্ডার। সবমিলিয়ে ভারতের তুফানি ইনিংসে ৪৮ ওভারে ওঠে ৩১৯ রান। বৃষ্টির জন্য খেলা কমে দাঁড়ায় ৪৮ ওভারের। এই অবস্থায় ৪৮ ওভারে ৩২০ রান করতে হবে এই টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান দল। শুরুতে আজহার আলি কিছুটা লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েন পাকিস্তানের অন্য দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটসম্যানেরা। দলের ৪৭ রানের মাথায় আহমেদ শেহজাদ দিয়ে পাকিস্তানের উইকেট পতন শুরু হয়। তারপর আর থামেনি এই পতন। একের পর এক বাবর আজম, আজহার আলি, শোয়েব মালিক, মহম্মদ হাফিজরা ফিরে যেতে থাকেন প্যাভিলিয়নে। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিককে এদিন জাদেজা যেভাবে রান আউট করেন তা ভারতীয় ফিল্ডিংয়ের মানোন্নয়নটা সকলের কাছে আরও একবার পরিস্কার করে দিল। যদিও এদিন সামগ্রিক ভাবে ভাল ফিল্ডিংয়ের নমুনা দেখায়নি ভারতীয় দল। বেশ কিছু বল গলেছে পায়ের ফাঁক দিয়ে, পড়েছে সহজ ক্যাচও। এদিন পাকিস্তানের ৯ উইকেট পরার পরই খেলা শেষ হয়ে যায়। পায়ে চোটের জন্য পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ ব্যাট করতে নামতে পারেননি। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন যুবরাজ সিং।

 


Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button