Entertainment

রিয়ার জন্য রাতের ঘুম উড়েছে যুবকের

রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তবু রিয়া চক্রবর্তীর জন্যই কার্যত রাতের ঘুম উড়ে গেছে এক যুবকের।

মুম্বই : বলিউড অভিনেত্রী হিসাবে রিয়া চক্রবর্তীর নাম শুনেছেন। তবে তাঁর সঙ্গে কোনও পরিচয় তাঁর নেই। থাকার কথাও নয়। সুশান্তের মৃত্যুর পর রিয়া চক্রবর্তীর নাম তিনি আরও বেশি করে জেনেছেন। খবরে পড়েছেন। টিভিতে খবরে শুনেছেন। কিন্তু সেই অজানা, অচেনা রিয়া চক্রবর্তীর কারণে যে তাঁর রাতের ঘুম উড়ে যাবে তা বোধহয় তাঁর জানা ছিলনা। কিন্তু এমনটাই হয়েছে। ক্রমশ মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়ছেন সাগর সুরভে নামে বছর ৩২-এর ওই যুবক। তাঁর দিন রাত নষ্ট করে ছাড়ছে তাঁর ফোন।

ঘটনার সূত্রপাত কিছু সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এবং কিছু টিভি চ্যানেলের হাত ধরে। সেখানে রিয়া চক্রবর্তীর ফোন নম্বর বলে জানিয়ে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল। আর তারপর থেকেই জীবনে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছেন সাগর। আসলে রিয়া চক্রবর্তীর নম্বরের সঙ্গে তাঁর ফোন নম্বরের অসম্ভব মিল। ফারাক কেবল একটি সংখ্যার। আর সেই সংখ্যা যে কোনও কারণেই ভুল করছেন অনেকে।

ভুল সংখ্যা বসিয়ে রিয়া চক্রবর্তী ভেবে তাঁর ফোনে একের পর এক আপত্তিকর মেসেজ ঢুকছে। খারাপ ভিডিও আসছে। ট্রোল আসছে। ফোন করে পর্যন্ত অনেকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ সব শব্দ শুনিয়ে রেখে দিচ্ছেন। সাগর কিছুতেই বোঝাতে পারছেন না এটা রিয়া চক্রবর্তীর নম্বর নয়। আর তাঁর সঙ্গে রিয়া চক্রবর্তীর কোনও চেনাশোনা নেই। কিন্তু কিছুতেই কোনও কাজ হচ্ছেনা। এখন দিন নেই, রাত নেই, মাঝ রাত নেই, সারাক্ষণ তাঁর ফোনে তাঁকে রিয়া ভেবে আসছে অগুন্তি আপত্তিকর মেসেজ, ভিডিও, ফোন।

কার্যত জেরবার হয়ে সাগর ইতিমধ্যেই শতাধিক ফোন নম্বর ব্লক করে দিয়েছেন। কিন্তু তাতে খুব কিছু উপকার হয়নি। অন্য নম্বর থেকে আসছে ফোন। আর এসেই চলেছে। দিন রাত কটুকথা শুনে চলেছেন তিনি। এমনকি বিষয়টি তিনি পুলিশকেও জানিয়েছেন। নবি মুম্বই পুলিশ তাঁকে তাঁর সোশ্যাল সাইটগুলিও না ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তা মেনেও চলছেন সাগর। কিন্তু অশান্তি জীবনের সঙ্গে যেন জুড়ে গিয়েছে। ফলে তাঁর স্বাভাবিক জীবন লাটে উঠেছে।

নিজের ফোন তো প্রায় ব্যবহার করার সুযোগই পাচ্ছেন না। সারাক্ষণ তা বেজে চলেছে। আর ফোন কানে নিলে এমন সব শব্দ ওপার থেকে আসছে যে নিজেকে স্থির রাখা মুশকিল হচ্ছে। এখন নিজের নিত্যদিনের কাজের জন্য বন্ধুর একটি ফোন সাগর ব্যবহার করা শুরু করেছেন। পুলিশ সাগরকে পরামর্শ দিয়েছে যতদিন না এসব কিছুটা থামছে ততদিন অন্য কোনও নম্বর যেন ব্যবহার করেন তিনি। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button