Tuesday , August 20 2019
Just In
Chandrayaan-2
চন্দ্রযানকে নিয়ে আকাশে পাড়ি জমানো বাহুবলী, ছবি - আইএএনএস

সমস্যা নেই, ঘড়ি ধরে চাঁদে পাড়ি দিল চন্দ্রায়ন-২

এবার আর কোনও ভুল নেই। একদম ঘড়ি ধরেই চাঁদে পাড়ি দিল ভারতের চন্দ্রায়ন-২ মহাকাশযান। শ্রীহরিকোটা থেকে সোমবার ঠিক দুপুর ২টো ৪৩ মিনিটে জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল মার্ক ৩ বা বাহুবলী-তে চেপে পাড়ি দেয় চন্দ্রায়ন ২। মেঘলা ছিল শ্রীহরিকোটার আকাশ। ফলে প্রাথমিকভাবে রকেটের পাড়ি জমানো নজরে পড়লেও দ্রুত তা মেঘের পিছনে হারিয়ে যায়। তবে তা কাজ করেছে একদম নিয়ম মেনে।

গত সোমবার মধ্যরাতে ওড়ার সব ঠিকঠাক। শুরু হয়েছিল রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা আর সেকেন্ড গোনা। মধ্যরাতেও টানটান উত্তেজনায় সরগরম ছিল ইসরো। এক ঘণ্টারও কম সময় পর চাঁদে পাড়ি দেবে মহাকাশযান। মূল যান বিক্রমকে পেটে নিয়ে আকাশে উড়ে যাবে বাহুবলী। বিজ্ঞানের ভাষায় জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল মার্ক ৩। ঠিক তার আগের মুহুর্তে থমকে যায় ঘড়ি। কী হল! কাউন্টডাউন ঘড়ি থমকে গেল কেন? এ প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দেয় ইসরো। জানিয়ে দেয় শেষ মুহুর্তে স্থগিত হয়েছে চন্দ্রায়ন-২ মিশন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য স্থগিত। উৎক্ষেপণের পরবর্তী দিন পরে ঘোষণা করা হবে।

এরপর ইসরো জানিয়ে দেয়, আগামী ২২ জুলাই সোমবার দুপুর ২টো ৪৩ মিনিটে বাহুবলী পাড়ি দেবে। গত সোমবার চন্দ্রায়ন-২-এর উৎক্ষেপণের সময় ছিল রাত ২টো ৫১ মিনিটে। সেদিন উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার পর ইসরোর বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে চাইছিলেন ভুল ত্রুটি সম্বন্ধে। তাই কিছুটা সময় নিয়ে ৭ দিন পর নতুন দিন ঠিক হল। গত সোমবার উৎক্ষেপণের আগে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন জ্বালানি হিসাবে যে হিলিয়াম ট্যাঙ্ক চন্দ্রযানে রয়েছে তাতে ঠিকঠাক চাপ তৈরি হচ্ছে না। ফলে তাঁরা আর ঝুঁকি নেননি। স্থগিত করে দেন উৎক্ষেপণ।

২২ জুলাইয়ের উৎক্ষেপণ অবশ্য সম্পূর্ণ সফল হল। এবার পৃথিবীর কক্ষপথেই বেশ কিছুদিন চক্কর কাটবে এই যান। তারপর তা ক্রমে চাঁদের কক্ষে ঢুকে পড়বে। সেখানেই কক্ষে চক্কর দিতে দিতে ক্রমশ চাঁদের কাছে পৌঁছবে সেটি। তার পর চাঁদের মাটিতে আস্তে আস্তে নেমে পড়বে ল্যান্ডার বিক্রম। ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাইয়ের নামেই এই ল্যান্ডারের নামকরণ করা হয়েছে। রোভার প্রজ্ঞানকে নিয়ে এবার চাঁদের মাটিতে তার খোঁজ শুরু হবে। চাঁদের মাটি কেটে দেখবে সেখানকার খনিজ পদার্থ। জানান দেবে আবহাওয়ার।

ভারতের এই চন্দ্রায়ন-২-এর বেশ কিছু মৌলিক দিক রয়েছে। যেমন, প্রথমবার ভারত যে চন্দ্রাভিযান করেছে তাতে চাঁদের মাটিতে নামেনি যান। এবার সেটা হচ্ছে। ফলে চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক অবতরণ একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামছে বিক্রম। যেখানে এখনও কোনও দেশ অভিযান চালায়নি। আমেরিকা, রাশিয়া বা চিন তাদের যান নামিয়েছে চাঁদের উত্তর গোলার্ধে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *