World

লাল পাথরের মধ্যে সোনা আছে ভেবে কুড়িয়ে এনেছিলেন, গোটা বিশ্বকে চমকে দিল সেই পাথর

তিনি একটি পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই একটি লাল পাথরের খোঁজ পান তিনি। মাটির মধ্যে নেহাতই অবহেলায় পড়েছিল পাথরের টুকরোটা। বাকিটা ইতিহাস।

একটি লাল পাথর। সেটা পড়েছিল মাটির একটা কোণায়। পার্কের মধ্যে অনেকেই ঘোরাফেরা করছেন। অনেক পাথর এদিকওদিক ছড়ানো। কিন্তু এই পাথরের টুকরোটা দেখে একটু অবাকই লাগে তাঁর।

কেমন যেন অন্যরকম দেখতে। লালচে রং। বেশ শক্ত। ভারীও বটে। তাঁর দেখে মনে হয় এই পাথরের মধ্যে সোনার টুকরো থাকতে পারে। তিনি আর সময় নষ্ট না করে সেটা কুড়িয়ে নেন। তারপর সেটা বাড়ি নিয়ে আসেন।

শুরু হয় পাথরটি ভেঙে তার মধ্যে থাকা সোনা উদ্ধারের চেষ্টা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে তিনি আরও বড় চমক খান। এ কেমন পাথর যা হাতুড়িতে ভাঙে না, ড্রিল মেশিন দিয়ে ফুটো হয়না, অ্যাসিডে ডোবালেও তার কোনও পরিবর্তন হয়না!

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের কাছে মেরিবোরো রিজিওনাল পার্কে কুড়িয়ে পাওয়া সেই পাথরটি নিয়ে ডেভিড হোল বাড়িতে এসেছিলেন যে আশা নিয়ে সেটাতেই জল ঢালা হয়ে যায়। পাথরটা ভাঙতে না পারলে তো তার মধ্যে থাকা সোনা পাওয়া যাবেনা।

ডেভিড কিন্তু নিশ্চিত ছিলেন পাথরটা ভাঙতে পারলে ভিতরে সোনা তিনি পাবেনই। কারণ মেরিবোরো এলাকা সোনার খনির জন্যই বিখ্যাত। বছর কয়েক চেষ্টা করেও পাথরটি কিছুতেই ভাঙতে না পেরে ডেভিড পাথরটি নিয়ে অবশেষে বিশেষজ্ঞদের কাছে যান। কেন ভাঙা যাচ্ছেনা পাথরটা? সেটাই বোঝার চেষ্টা করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞেরা পাথরের টুকরোটি পরীক্ষা করা শুরু করেন। এরপর তাঁরা যা জানান তাতে ডেভিড হতবাক হয়ে যান। বিশেষজ্ঞেরা জানান সেটি লোহা এবং নিকেলের মিশ্রণে তৈরি একটি প্রস্তরখণ্ড যা আসলে একটি উল্কাপিণ্ড। অত্যন্ত বিরল এক উল্কাপিণ্ড। যা মহাকাশ থেকে নেমে এসেছিল পৃথিবীর বুকে।

পাথরটির বয়স ৪৬০ কোটি বছর বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। এ পাথরের মূল্য সোনার খণ্ডের চেয়েও অনেক অনেক বেশি বলেই জানান তাঁরা। যেহেতু এটি মেরিবোরো-তে পাওয়া গিয়েছিল তাই তার নাম মেরিবোরো রাখা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববাসীও এই পাথরের কাহিনি জেনে অবাক।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *