State

ঘর সাজাতে বেছে নিতে পারেন কাঠের গুঁড়ো, কচুরিপানা থেকে সুপুরি পাতা

বাড়িকে সাজিয়ে তুলতে কার না ভাল লাগে। এখন গৃহসজ্জার জগতে নানা জিনিস জায়গা করে নিচ্ছে। কচুরিপানা থেকে সুপুরি পাতার অপরূপ সাজ নজর কাড়ছে।

মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : রূপসী বাংলাকে ভালবেসে কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়…। যে মানুষ একবার এই বাংলার প্রেমে পড়েছেন তিনিই জানেন এখানে কি মধু লুকিয়ে রয়েছে। বাংলার জল, মাটি থেকে তার নিজস্ব শিল্প, সবকিছুই নিজগুণে অনন্য।

বাঙালির মননের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে শিল্পকলা। তার প্রতিটি কাজেই প্রকাশ ঘটে শিল্পীসত্তার। যে শিল্পের মধ্যে বেশিরভাগটাই ক্ষুদ্র এবং কুটিরশিল্পের আওতায় পড়ে। এই শিল্প সুষমার জোরে পশ্চিমবঙ্গের হস্তশিল্প আজ সারাবিশ্বে সমাদৃত।

পশ্চিমবঙ্গের এই বৈচিত্র্যময় হস্তশিল্পের মধ্যে কাঁথা সেলাই, ডোকরা, টেরাকোটা, শোলা, বাঁশ ও বেতের কাজ, কাঁসা ও পিতলের কাজ উল্লেখযোগ্য। বঙ্গীয় হস্তশিল্পের এই দীর্ঘ তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে কাঠছোলা, কাঠের গুঁড়ো, কচুরিপানা, সুপুরি পাতার মত জিনিসও।

হাওড়ার বাগনানের মহিলারা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাঠছোলা, কাঠের গুঁড়ো, কাঠের ছোট টুকরো, কচুরিপানা, সুপুরি পাতা, আখরোট ও বেলের শুকনো খোল থেকে তৈরি করছেন বিভিন্নরকম আকর্ষণীয় জিনিসপত্র। যারমধ্যে খেলনা, ঘর সাজানোর জিনিস, গয়না, খোঁপার কাঁটা, ঘড়ি, আয়নার ফ্রেম এবং এমন অনেককিছুই রয়েছে।

ঘর সাজিয়ে তুলতে সারাবছরই এঁদের জিনিসের একটা চাহিদা থাকে। তবে মেলায় এলে তাঁদের তৈরি হস্তশিল্প বহু মানুষের সামনে হাজির হয়। এখানে দেখে অনেকেই এই সব শিল্পীদের কাজ অনলাইনে কিনে নেন। অর্ডার করেন।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পরিচালনায় কাজ শিখে মহিলারা রাজ্যের বিভিন্ন মেলা এবং প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। এতে ক্রেতাদের সামনে সরাসরি নিজেদের হাতের কাজ দেখিয়ে তাঁরা বিক্রির সুযোগ পান। একইসঙ্গে সারাবছর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।

এসব সামগ্রির দাম ৬০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা অবধি হয়ে থাকে। বছরে কয়েকটি মেলা এবং বাকি সময় কর্মশালার মাধ্যমে এইসব গ্রামীণ মহিলারা উপার্জনের রাস্তা খুঁজে নিয়েছেন।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *